গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার সাবেক ওসি, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ও দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত একইসঙ্গে আগামী মাসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার সাবেক ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কনস্টেবল ফাহিম হাসান ও কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান সজীব।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে কলেজছাত্র মো. হৃদয় হত্যার ঘটনায় এই পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা পরবর্তী মাসে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয়রা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যদি মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয়, তবে তাদের বিচার আরও কঠোর হওয়া উচিত। গাজীপুরের বাসিন্দারা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিন্তু যদি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কিছু সদস্যই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তবে সেটি আইনের শাসনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই ধরনের মামলাগুলোর তদন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপ দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।