মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

কক্সবাজারে বিনা চিকিৎসায় কাতরাচ্ছে ৬ হাজার ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যু ৫

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৬ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ও টেকনাফ-উখিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এদিকে ভয়াবহ ব্যাপার হলো- চিকিৎসক, নার্সদের আন্দোলনের কারণে গত দুদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই ডেঙ্গু […]

নিউজ ডেস্ক

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৩:৩৫

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৬ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ও টেকনাফ-উখিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

এদিকে ভয়াবহ ব্যাপার হলো- চিকিৎসক, নার্সদের আন্দোলনের কারণে গত দুদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এক ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে জেলাজুড়ে।

জানা গেছে, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এক চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ৪ দফা দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলছে দুদিন ধরে। বৃহস্পতিবার কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রাইভেট চেম্বারেও রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কর্মসূচির পক্ষে মাঠে নেমেছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

এর ফলে এখন বিনা চিকিৎসায় কাতরাচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হাজার হাজার রোগী। এতে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ আহমদ হাওলাদার জানান, ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অসচেতনতা। ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা, ড্রেন পরিষ্কার রাখা, বাড়ির আশেপাশে জমে থাকা ময়লা এবং পানি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি বিভাগে রোগী দেখলেও ১০ মিনিটের মধ্যেই তাদের বিদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে সিট খালি না থাকায় রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। তাই যেসব রোগীর সামর্থ্য রয়েছে, তারা ছুটে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। এমনকি বৃহস্পতিবার কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও কোনো ডাক্তারের দেখা মেলেনি। সম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চিকিৎসকের দাবি, কিছুটা অনিরাপদ মনে করলেও তারা রোগীদের সেবা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনরত চিকিৎসকদের হুমকির কারণে তারা কাজে যোগদান করেননি। বৃহস্পতিবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী দেখতে না যেতে চিকিৎসকদের নিষেধ করা হয়েছে। এতে করে তারা ভয়ে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী দেখতে যাননি।

এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা ও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হলেও নিরাপত্তার অজুহাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো আন্দোলনরতদের উস্কানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসকদের দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৭০ জনে। এরমধ্যে রোহিঙ্গা রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮৫ জন এবং স্থানীয় রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৭৮৫ জন। এ পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, মৃত সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত জুন মাসে ৩৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। এরমধ্যে স্থানীয় ৫৫ জন এবং রোহিঙ্গা ২৭৯ জন। জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৬৫ জন, এরমধ্যে স্থানীয় ৪৮৫ জন এবং রোহিঙ্গা ৪৮০ জন। আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট মাসে ৪২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে, এরমধ্যে ১৪৪৮ জন স্থানীয় এবং ২৭৯৯ জন রোহিঙ্গা। গত মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বরণ করেছে ৫ জন রোহিঙ্গা রোগী। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ আহমদ হাওলাদার কক্সবাজারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রতিরোধে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে আন্দোলনের কারণে ডেঙ্গু রোগীসহ অন্যান্য রোগীও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মানবিক বিপর্যয়ের আগে এটি সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্দোলন কবে নাগাদ প্রত্যাহার হবে, জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, চিকিৎসক-নার্স এবং হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন না।

বিনা চিকিৎসায় হাজারো রোগী কাতরাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা নিয়ে জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা লেখেন, আমাদের কাজ আমরা করব’।

আন্দোলনে তার উস্কানির অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। তারা আন্দোলনের বিষয়ে কিছু না বললেও চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যদের একটি টিমও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় মামলাও করা হয়েছে এবং ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও আন্দোলন কেন চলছে, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, তারা আমাকে আন্দোলনের বিষয়টি জানায়নি, তবে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার বিষয়ে ডিসি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, আমি যেহেতু নতুন যোগদান করেছি, হাসপাতালে সরজমিনে যাব।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশেকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি আবদুল আজিজ নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। তিনি শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনার জেরে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজীব কাজীকে মারধর করা হয়। এরপর আইসিইউ, সিসিইউসহ হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে কর্মবিরতিতে যান হাসপাতালের সকল চিকিৎসক ও কর্মীরা। এরপর থেকে জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও আবাসিক চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। ফলে ভর্তি রোগীরা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। নানা দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলছে।

সারাদেশ

পূজা মন্ডপের পাশে মুসলিম শিশু ধ/র্ষ/ণ, পূজামণ্ডপের সহসভাপতি ভজেন্দ্র সরকার গ্রেফতার

পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে

নিউজ ডেস্ক

০২ অক্টোবর ২০২৫, ০০:৩২

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ীতে পূজা মণ্ডপের পাশে আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত ভজেন্দ্র সরকারকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতার হওয়া ভজেন্দ্র সরকার (৫৫) আশ্রয়ণ প্রকল্প পূজামণ্ডপের সহসভাপতি এবং মেঘলাল সরকারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ভজেন্দ্র সরকারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। শিশুটির মা মোসা. ফাতেমা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলাটি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি এমন অপরাধে জড়ান, তবে তা সমাজে গভীর ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।

সারাদেশ

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার […]

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৩

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে অফিসটিতে হামলা করে। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। 

ফুল উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে তার কোন পদ পদবী নেই। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের ভাতিজার বউভাতের অনুষ্ঠান চলছিল। এ অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকা সহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনকে দাওয়াত করা হয়। যথারীতি ওইদিন দুপুর থেকে আমন্ত্রিত লোকজন আসতে থাকেন।

আনন্দ ঘন পরিবেশে এলাকার যুবসমাজ আপ্যায়ন কাজ করেন। বিকালে পৌর সদরের তোফায়েল নামের এক ব্যক্তি দাওয়াত খেয়ে লক্ষীগঞ্জ বাজারের ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে বসেন। তখন ফুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি যুবদলের অফিসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তোফায়েল বসতে বলেন।

ফুল মিয়া অফিসে বসার পর স্থানীয় এক যুবদল নেতা বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে অত্যাচার নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তাকে তাড়িয়ে দেন। ফুল মিয়া বিষয়টি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের কাছে জানান। পরে কামাল বিষয়টি জানার পর যুবদলের অফিসে আসেন। তোফায়েল সহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কামালকে ঘটনা খুলে বলেন এবং তাকে শান্ত করে বুঝিয়ে দেন। কামাল খান যুবদলের অফিস থেকে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার লোকজন অফিসে হামলা ভাঙচুর করেন।

বিএনপি নেতা বাবুল মিয়া বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফুল মিয়া দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকার লোকজনকে অত্যাচার নির্যাতন করেছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জেলা বিএনপি’র নেতা শফিকুল কাদের সুজা ভাইয়ের উপরও সে হামলা করে।

তাকে যুবদলের অফিসে থেকে কিছু পোলাপান বখাঝখা করে তাড়িয়ে দেয়। পরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তার লোকজন নিয়ে যুবদলের অফিসে হামলা ভাঙচুর করে। তবে আমরা যুবদলের লোকজনকে ঝামেলা করতে দেইনি। 

নেত্রকোনা পৌর শহরের কুরপাড়ের বাসিন্দা তোফায়েল মীর বলেন, আমি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল ভাইয়ের ভাতিজার বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ফেরার সময় যুবদলের অফিসে নেতাকর্মীদের দেখে বসি। কিছুক্ষণ পর একজন বয়স্ক লোককে বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বসতে বলি।

আমি জানিনা তিনি আওয়ামী লীগ করতেন কিনা। পরে কিছু পোলাপান তার অত্যাচার নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে গালমন্দ করে অফিস থেকে চলে যেতে বলে। এরপর তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কামাল ভাই যুবদলের অফিসে আসেন।

তাকে আমরা বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তিনি চলে যান। কিন্তু দশ মিনিট পর তিনি তার লোকজন নিয়ে অফিসে এসে হামলা করেন। বিষয়টি দেখে হতবাক হয়েছি।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম বলেন, ফুল মিয়া নামের একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খান তার লোকজন নিয়ে অফিসে হামলা করেন।

দায়িত্বশীল কোন নেতা যদি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করে তা দুঃখজনক। আমি চাই সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যাতে আর কেউ পতিত আওয়ামী লীগের কাউকে পুনর্বাসন করতে না পারে।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কামাল খান বলেন, আমার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক দাওয়াতি মেহমান এসেছে। ফুল মিয়াও দাওয়াত খেতে আসে। তাকে প্রথমে আমাদের দলের ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু লোকজন বাজারে মারপিট করে।

যেহেতু আমার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছে বিষয়টি আমি জেনে তাদের বলি কাজটা ঠিক হয়নি। পরে আরেক দফা তাকে মারপিট করা হয়। আমার চেম্বারের সিসি ক্যামেরা আছে প্রয়োজনে এখানে যা সংঘটিত হয়েছে এর সব তথ্য প্রমাণ ভিডিও ফুটেজে পাওয়া যাবে। আমার সুনাম নষ্ট করতে কিছু লোক পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা নিজেরাই ওই চেম্বারের চেয়ার ভাঙচুর করে একটা বাজে পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবে ফুল মিয়াকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কাজী শাহ্ নেওয়াজ বলেন, দলীয় অফিসে হামলা হয়েছে কিনা বিষয়টি জানিনা। তবে লক্ষীগঞ্জ একটি ঝামেলা হয়েছে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সারাদেশ

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল। […]

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৪

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন, যেখানে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আজিজুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন রৌমারী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ফলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ভাইয়ের বিপরীতে ভাই’ এই অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন মোস্তাক। তিনি স্থানীয় জামায়াতের একটি প্রভাবশালী মুখ হিসেবে সমর্থকদের নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিএনপি থেকে তার বড় ভাইয়ের মনোনয়ন ঘোষণার পর নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দুই ভাইয়েরই এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার। এ আসন ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলেরই শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এই পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

স্থানীয় রাজনীতিকরা বলছেন, “রৌমারী-চিলমারীর ইতিহাসে এটাই প্রথমবার দুই ভাই একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে নির্বাচনী মাঠে এক ধরনের আবেগ ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।”

জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “আমার বড় ভাই প্রার্থী হয়েছেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে। জনগণ পরিবর্তন চায়।”
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই একসময় বিএনপির রাজনীতি করত। এখন জামায়াতে গেছে, তবে জনগণ এখনও আমার সঙ্গেই আছে। আমি মাঠে নামলে সেই সমর্থন আরো শক্ত হবে।”

দুই ভাইয়ের এই লড়াই শুধু রাজনীতিতে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভোটারদের মতে, এই নির্বাচনে রক্তের সম্পর্ক নয়, জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে জনগণের ভালোবাসা ও রাজনৈতিক বিশ্বাস।