২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ঠান্ডাকালি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ -জানুয়ারি) এ উপলক্ষে লাখ লাখ দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘ঠান্ডা কালী মেলাতে। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে প্রতি বছর মাঘ মাসের শুরুতে (এক তারিখে) উপজেলার মোঘরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন মাঠে কয়েক হাজার অস্থায় দোকানপাটের সমাগম ঘটে।
তবে কুমিল্লা নোয়াখালী দুটি জেলা পাশাপাশি হওয়াতে আঞ্চলিক ভাষাগত মিশ্রনের ফলে ঠান্ডাকালি মেলাটি ঠান্ডায়ালি মেলা নামে লোক মুখে পরিচিত। জানা গেছে নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের মোঘরা গ্রামের শ্রী উপেন্দ্র চন্দ্র এর বাড়িতে ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করা হতো। কালক্রমে বাড়িটির নাম কালী বাড়ি হিসেবে পরিচিত লাভ করে। এরপর কালী বাড়ির লোকজন শীত ঋতুতে বাংলা বছরের পহেলা মাঘ মেলা শুরু করে।
মেলাটি শীতকালে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ‘ঠাণ্ডা’ আর কালী বাড়িতে হওয়ায় ‘কালীর’ এককথায় ‘ঠাণ্ডা কালীর মেলা’ নামে পরিচিত। মেলার পাশে ঢাকা চট্টগ্রাম রেলপথ থাকার কারণে মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করে। এই মেলা উপলক্ষে নাঙ্গলকোট উপজেলার মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
তবে এই মেলায় কৃষি যন্ত্রপাতি, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ও বাচ্চাদের খেলনার জন্য মেলাটি বিখ্যাত। মেলায় সবচেয়ে বড় আকর্শন থাকে বড় বড় মাছ। প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৎস্যপ্রেমীরা পছন্দনীয় মাছ ক্রয় করতে এ মেলায় আসে। বয়স্ক ও শিশুদের আনন্দের জন্য থাকে সার্কাস, নাগরদোলাসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা।
তবে সন্ধ্যা হলে মেলা থেকে সামান্য দূরে রমরমা জুয়া খেলার আসর জমে এই মেলাতে। লক্ষ লক্ষ টাকা কেউ জিতে কেউ হারায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিশ্ব হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয় জুয়ারিদের। এই বিষয়ে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান থাকলেও জুয়ারিদের অনৈতিক জুয়ার আসরের কারণে এই মেলার সুনাম হনি হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে যুগ যুগ ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে এই মেলা টিকে থাকবে।