শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

‘বিচার চাই গো, আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই : পুলিশ কর্মকর্তার মা

জামালপুরের কর্মস্থল থেকে ছুটিতে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে গ্রামের বাড়ি গিয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম। নিহত পুলিশ কর্মকর্তার মা ফাতেমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন,বিচার চাই গো আমি আর কিছু চাই না গো আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন পুলিশের এসআই শফিকুল […]

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারী ২০২৫, ১১:০৪

জামালপুরের কর্মস্থল থেকে ছুটিতে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে গ্রামের বাড়ি গিয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম। নিহত পুলিশ কর্মকর্তার মা ফাতেমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন,বিচার চাই গো আমি আর কিছু চাই না গো আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।

কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন পুলিশের এসআই শফিকুল ইসলাম(৪৫)। পুলিশের এই সদস্য জামালপুরের পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন ।

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে শফিকুল ইসলাম তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এবং পরদিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহের ভাড়া বাসায় উঠার কথা ছিল। কিন্তু এই সফরই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ সফর। পরিবার ও এলাকাবাসী শোকাহত এবং এই নির্মম হত্যার বিচার চান। নিহত শফিকুল ইসলামের বাবা রফিকুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ৬ জনকে আসামী করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার হলেও এখনো কেনো আসামী গ্রেপ্তার হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার(৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাজার করার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকায় পান মহালের গলিতে বেশ কয়েকজন দুস্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কোপালে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ওই দিন রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি । শুক্রবার(১০আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে তার মরদেহ পৌঁছলে সেখানে স্বজনদের মাঝে শুরু হয় শোকের মাতম। এলাকাবাসির মাঝেও দেখা দেয় শোকাবহ পরিবেশ। বিকালে গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন হয়।

নিহতের ছেলে রাফিউল ইসলাম বলেন, শুক্রবার আমাকে নিয়ে ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিলো আব্বুর কিন্তু আব্বু ময়মনসিংহ গেল ঠিকই ফিরলো আমাকে এতিম করে। আমি দোষীদের এমন বিচার চাই যেনো আমার মত এতিম যেনো আর কেউ না হয়।

নিহত পুলিশের এস আই শফিকুলের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন বলেন,২৪ ঘন্টার মধ্যে আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্ত এখনো কেউ গ্রেপ্তার হলো না আমরা খুবই হতাশায় আছি৷

স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কখনো এ পরিবারের এমন আচরণ দেখিনি যে তাদের শত্রু থাকবে এলাকায়। আমরা কল্পনা করতে পারিনি এমন একটি ভালো ছেলেকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হবে। আমরা এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

নোয়াগাঁও গ্রামের রমজান আলী বলেন, অত্র এলাকার মধ্যে কারো সাথে কেনোদিন শফিকুলের মনোমালিন্য হয়নি৷ সে অত্যন্ত সৎ ও ভালো ছেলে ছিলো। আমরা শফিকুলের মতো একজন ভালো মানুষকে এলাকা থেকে হারালাম। আমরা চাই এ খুনের সঠিক তথ্য বের হউক।

একই এলাকার নিহত পুলিশ শফিকুলের শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, সে যখন এসএসসি পরীক্ষা দিযেছিলো তখন আমি তাঁকে পড়িয়েছি। আমার জানামতে এলাকায় তার সাথে কারো কোন ঝগড়া নেই। তাঁকে নৃশংসভাবে ভাবে হত্যা করা হয়েছে । আমরা এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই।

নোয়াগাঁও এলাকার জামাই শামছুল আলম খান বলেন, সবাই আসলে হতবাক একজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে সেখানে তো সাধারণ মানুষের তো কেনো নিরাপত্তা নেই। দুর্গাপুরবাসী,এলাকাবাসী ও সকল শান্তপ্রিয় মানুষের দাবী অতি দ্রুত আসামীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল কালাম আযাদ শুক্রবার বিকেলে নিহতের বাড়ি চন্ডিগড় ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে যান এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জানাজায় অংশ নেন। এ সময় তিনি জানান অতি শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে এবং

দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সারাদেশ

পূজা মন্ডপের পাশে মুসলিম শিশু ধ/র্ষ/ণ, পূজামণ্ডপের সহসভাপতি ভজেন্দ্র সরকার গ্রেফতার

পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে

নিউজ ডেস্ক

০২ অক্টোবর ২০২৫, ০০:৩২

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ীতে পূজা মণ্ডপের পাশে আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত ভজেন্দ্র সরকারকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতার হওয়া ভজেন্দ্র সরকার (৫৫) আশ্রয়ণ প্রকল্প পূজামণ্ডপের সহসভাপতি এবং মেঘলাল সরকারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ভজেন্দ্র সরকারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। শিশুটির মা মোসা. ফাতেমা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলাটি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি এমন অপরাধে জড়ান, তবে তা সমাজে গভীর ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।

সারাদেশ

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার […]

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৩

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে অফিসটিতে হামলা করে। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। 

ফুল উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে তার কোন পদ পদবী নেই। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের ভাতিজার বউভাতের অনুষ্ঠান চলছিল। এ অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকা সহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনকে দাওয়াত করা হয়। যথারীতি ওইদিন দুপুর থেকে আমন্ত্রিত লোকজন আসতে থাকেন।

আনন্দ ঘন পরিবেশে এলাকার যুবসমাজ আপ্যায়ন কাজ করেন। বিকালে পৌর সদরের তোফায়েল নামের এক ব্যক্তি দাওয়াত খেয়ে লক্ষীগঞ্জ বাজারের ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে বসেন। তখন ফুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি যুবদলের অফিসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তোফায়েল বসতে বলেন।

ফুল মিয়া অফিসে বসার পর স্থানীয় এক যুবদল নেতা বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে অত্যাচার নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তাকে তাড়িয়ে দেন। ফুল মিয়া বিষয়টি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের কাছে জানান। পরে কামাল বিষয়টি জানার পর যুবদলের অফিসে আসেন। তোফায়েল সহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কামালকে ঘটনা খুলে বলেন এবং তাকে শান্ত করে বুঝিয়ে দেন। কামাল খান যুবদলের অফিস থেকে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার লোকজন অফিসে হামলা ভাঙচুর করেন।

বিএনপি নেতা বাবুল মিয়া বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফুল মিয়া দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকার লোকজনকে অত্যাচার নির্যাতন করেছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জেলা বিএনপি’র নেতা শফিকুল কাদের সুজা ভাইয়ের উপরও সে হামলা করে।

তাকে যুবদলের অফিসে থেকে কিছু পোলাপান বখাঝখা করে তাড়িয়ে দেয়। পরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তার লোকজন নিয়ে যুবদলের অফিসে হামলা ভাঙচুর করে। তবে আমরা যুবদলের লোকজনকে ঝামেলা করতে দেইনি। 

নেত্রকোনা পৌর শহরের কুরপাড়ের বাসিন্দা তোফায়েল মীর বলেন, আমি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল ভাইয়ের ভাতিজার বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ফেরার সময় যুবদলের অফিসে নেতাকর্মীদের দেখে বসি। কিছুক্ষণ পর একজন বয়স্ক লোককে বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বসতে বলি।

আমি জানিনা তিনি আওয়ামী লীগ করতেন কিনা। পরে কিছু পোলাপান তার অত্যাচার নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে গালমন্দ করে অফিস থেকে চলে যেতে বলে। এরপর তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কামাল ভাই যুবদলের অফিসে আসেন।

তাকে আমরা বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তিনি চলে যান। কিন্তু দশ মিনিট পর তিনি তার লোকজন নিয়ে অফিসে এসে হামলা করেন। বিষয়টি দেখে হতবাক হয়েছি।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম বলেন, ফুল মিয়া নামের একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খান তার লোকজন নিয়ে অফিসে হামলা করেন।

দায়িত্বশীল কোন নেতা যদি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করে তা দুঃখজনক। আমি চাই সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যাতে আর কেউ পতিত আওয়ামী লীগের কাউকে পুনর্বাসন করতে না পারে।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কামাল খান বলেন, আমার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক দাওয়াতি মেহমান এসেছে। ফুল মিয়াও দাওয়াত খেতে আসে। তাকে প্রথমে আমাদের দলের ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু লোকজন বাজারে মারপিট করে।

যেহেতু আমার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছে বিষয়টি আমি জেনে তাদের বলি কাজটা ঠিক হয়নি। পরে আরেক দফা তাকে মারপিট করা হয়। আমার চেম্বারের সিসি ক্যামেরা আছে প্রয়োজনে এখানে যা সংঘটিত হয়েছে এর সব তথ্য প্রমাণ ভিডিও ফুটেজে পাওয়া যাবে। আমার সুনাম নষ্ট করতে কিছু লোক পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা নিজেরাই ওই চেম্বারের চেয়ার ভাঙচুর করে একটা বাজে পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবে ফুল মিয়াকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কাজী শাহ্ নেওয়াজ বলেন, দলীয় অফিসে হামলা হয়েছে কিনা বিষয়টি জানিনা। তবে লক্ষীগঞ্জ একটি ঝামেলা হয়েছে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সারাদেশ

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল। […]

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৪

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন, যেখানে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আজিজুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন রৌমারী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ফলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ভাইয়ের বিপরীতে ভাই’ এই অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন মোস্তাক। তিনি স্থানীয় জামায়াতের একটি প্রভাবশালী মুখ হিসেবে সমর্থকদের নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিএনপি থেকে তার বড় ভাইয়ের মনোনয়ন ঘোষণার পর নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দুই ভাইয়েরই এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার। এ আসন ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলেরই শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এই পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

স্থানীয় রাজনীতিকরা বলছেন, “রৌমারী-চিলমারীর ইতিহাসে এটাই প্রথমবার দুই ভাই একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে নির্বাচনী মাঠে এক ধরনের আবেগ ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।”

জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “আমার বড় ভাই প্রার্থী হয়েছেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে। জনগণ পরিবর্তন চায়।”
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই একসময় বিএনপির রাজনীতি করত। এখন জামায়াতে গেছে, তবে জনগণ এখনও আমার সঙ্গেই আছে। আমি মাঠে নামলে সেই সমর্থন আরো শক্ত হবে।”

দুই ভাইয়ের এই লড়াই শুধু রাজনীতিতে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভোটারদের মতে, এই নির্বাচনে রক্তের সম্পর্ক নয়, জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে জনগণের ভালোবাসা ও রাজনৈতিক বিশ্বাস।