এম এম জসিম উদ্দিন (ভেদরগঞ্জ শরীয়তপুর) প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সিডুর টেক এলাকায় মেঘনার শাখা নদীতে সেতু না থাকায় ১২ মাস ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের।
যুগ যুগ ধরে চলে আসা চরম ভোগান্তির স্বীকার এসব মানুষের পাশে এ পর্যন্ত কেউ দাঁড়ায়নি। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এমপিরা সেতু করার ব্যাপারে শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছেন, কিন্তু কেউ এখন পর্যন্ত উদ্যোগ নেননি।
স্থানীয়রা জানায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার চর কুমারিয়া ইউনিয়নের সিডুর টেক এলাকা দিয়ে বয়ে চলেছে মেঘনার একটি শাখা নদী। নদীটি ভেদরগঞ্জ থেকে চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদীর হাইমচর অংশে মিলিত হয়েছে। ১২ মাসই এই নদীতে পানি প্রবাহমান থাকে।
এ কারণে উপজেলার চর কুমারিয়া, আরশিনগর ও আলাউলপুর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে একটি ডিঙি নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। নদীতে ভাটা পড়লে দুই পাড়ে হাঁটু পর্যন্ত কাদা হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনাসহ নানা ভোগান্তিতে পড়েন এলাকাবাসী। সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্ষন্ত নদীতে চলে এই নৌকা।
এ নদীতে একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। কাউসার আহম্মেদ নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, এই ডিঙি নৌকা দিয়ে পার হয়ে তাদের স্কুল-কলেজে যেতে হয়। বৈরী আবহাওয়ায় নৌকা বন্ধ থাকলে যাওয়া হয় না।
আফজাল মাঝি বলেন, ‘১০ বছর ধরে এই নদীতে নৌকায় করে কৃষিপণ্য ও মানুষ পারাপার করে যাচ্ছি। নৌকা বন্ধ হলে আমার কোন দুঃখ নেই। তবুও এই নদীর ওপর একটি সেতু হলে সবার সুবিধা হবে এটাই আমার চাওয়া।
শরীয়তপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, সিডুর টেক এলাকায় নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণ করার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি একনেকে পাশ হয়ে এলে সেখানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।