আলু আবাদ ঘিরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও বাজারের রাস্তার উপর বসেছে এমনই শ্রম বেচাকেনা হাট। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ হাটে এভাবেই চলে নারী—পুরুষের শ্রম বেচাকেনা।
দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল মুন্সীগঞ্জের ৬টি উপজেলা জুড়ে আলু চাষের উৎসব চলছে। এ মৌসুমের মাস দেড়েক জমি থেকে আগাছ বাছাই করা থেকে শুরু করে কেইল তৈরি ও বীজ বুনতে শ্রমিকের বেশ চাহিদা থাকে। দেশের উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলার নারী-পুরুষ শ্রমিক এ জেলায় ছুটে আসেন। আলু আবাদে বড় বড় চাষীদের জমিতে কাজে যেতেই শ্রমিক বেচাকেনা হাটের উৎপত্তি হয়েছে এ অঞ্চলে।
জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও বাজার হচ্ছে এ অঞ্চলের বৃহত শ্রমিক বেচাকেনা হাট। এছাড়াও জেলা সদরের মুক্তারপুর পেট্রোল পাম্প, মুন্সীরহাট, কাটাখালী বাজার, বাগেশ্বর বাজার, চিতলীয়া বাজার, চরডুমুরিয়া বাজার, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আলদী বাজার ও পুরা বাজার এবং গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া বাজার, সোনালী মার্কেট, রসুলপুর বাজার, ভবেরচর বাজারে এ হাট বসে থাকে।
বালিগাঁও বাজার ঘুরে দেখা গেছে. এ হাটে কুড়িগ্রাম, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, বরিশাল, ভোলা, জামালপুর, সাতক্ষীরা প্রভৃতি জেলা থেকে এ হাটে নারী-পুরুষ শ্রমিক জড়ো হন। প্রতিদিন হাজার খানেক শ্রমিক বেচাকেনা হয়ে থাকে। ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত একেকজন পুরুষ শ্রমিকের দাম উঠে। আর নারী শ্রমিক বেচাকেনা হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। বেচাকেনা পর ওই সব শ্রমিক আলু চাষীর বাড়ির সঙ্গে চলে যাচ্ছেন। আর চাষীরাই এসব নারী-পুরুষের থাকা—খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন।
কুড়িগ্রামের জয়তুনছো বেগম বলেন, আলু রোপনে প্রতিবছরই এহানে ছুটে আসি। এক বা দেড়মাস কাম করতে পারি। এ কামে একেক দিন ৩০০ টাহা পাইলেও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কামাই।
কুড়িগ্রামের অপর শ্রমিক মফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা আলু লাগাতে ২ মাসের জন্য আসি। এখানে আমরা মহাজনের মাধ্যমে কাজ করি। আমরা ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করি। খাওয়া থাকা বাদে দিনে ৭০০ টাকা মজুরি পাই। এতে করে ২০ হাজার টাকা খেকে ২৫ হাজার টাকা রোজগার করতে পারি।
গাইবান্ধার সোনাকুর গ্রামের জুসহাস মিয়া বলেন, বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান আছে। তাদের জন্য এখানে এসেছি। এক মাস কাজ পাইলে কমকরে ২০ হাজার টাকা লইয়্যা বাড়িতে যাইতে পারমু।
চলতি বছর এ জেলায় ৩৪ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।