মহরম হাসান মাহিম :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেছেন, সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি অবিলম্বে এই রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সংবিধান সংস্কারের ওপর জোর দেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর নিউমার্কেটস্থ বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন বৈধ, অথচ জনগণের ভোটে সংস্কারকে অবৈধ বলা এমন দ্বিচারিতা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটকে অবজ্ঞা করে জাতিকে অপমান করা হয়েছে এবং সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে রাজপথ ও সংসদ উভয় ক্ষেত্রেই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’-এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময়ের মতোই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদের আদলে বর্তমান সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ হিসেবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি ভোটের অনুপাতে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, ভারসাম্যপূর্ণ সরকার, মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং এ কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তির দায় সরকার এড়াতে পারে না।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বক্তারা গণভোটের পক্ষে এবং সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ও ‘গণভোট মানতে হবে’সহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।