ফয়সাল আহমাদ , শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তার ‘লাইফ কেয়ার হাসপাতাল-এ ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগেই হাসপাতালটি খোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
১০ (শুক্রবার) সংবাদকর্মীরা ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান, সিলগালা করা হাসপাতালটি খোলা অবস্থায় ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে যোগাযোগ করেই তারা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত ৮ মার্চ উজিলাব গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী রুমা (২৫) সিজারিয়ান অপারেশনের পর ভুল চিকিৎসায় মারা যান বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হাসপাতালটি সিলগালা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে আজ সরেজমিনে হাসপাতাল খোলা দেখতে পেয়ে সাংবাদিকরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগ ও প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে এটি সিলগালা করা হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং তদন্ত রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়নি। রিপোর্ট জমা হওয়ার আগে হাসপাতাল পুনরায় চালুর অনুমতির প্রশ্নই ওঠে না। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
একই বিষয়ে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও হাসপাতাল চালুর কোনো অনুমতি দেননি বলে নিশ্চিত করেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতাল খোলার বিষয়ে অবগত না থাকলেও, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বক্তব্য বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। মুঠোফোনে ইউএনও’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য তিনি মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন।
তদন্তাধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সেটি প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগেই প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন অনুমতিতে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বিচার পাওয়ার আগেই যদি হাসপাতাল খুলে দেওয়া হয়, তবে তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে কি না তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।