মজনুর রহমান , মেহেরপুর
বহিরাগতরা ভীড় জমাচ্ছেন এখানকার পাম্পে ॥ কেউবা করছেন চড়ামূল্যে বিক্রি ॥ মেহেরপুরে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা জ্বালানী সংকট| অনেকেই জ্বালানী সরবরাহ কম উল্লেখ করলেও মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র| মধ্যপ্রচ্যে যুদ্ধের কারনে তেল সংকট দেখা দিতে পারে মর্মে অনেকেই মেহেরপুরের তেল পাম্পে এসে মোটর সাইল ও কন্টেইনারে তেল নিয়ে তা মজুদ করছেন| আবার সেই তেল চড়ামূল্যে বিক্রি করছেন গোপনে|
এ জন্যই প্রতিনিয়ত ভীড় বা লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে পোম্প গুলোতে| ম্যাজিস্ট্রেটের বা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি কোন কাজেই আসছে না| ফলে ঝগড়া বিবাদ লেগেই আছে সবখানে| জেলার বাইরের বাইকাররা ভীড় জমাচ্ছেন পাম্পগুলোতে| তবে প্রশাসন বলছে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসন কাজ করছে|
জানা গেছে, জেলায় মোট তেলপাম্প রয়েছে ১৫ টি| একদিন পরপর সেখানে তেল দেয়া হয়| প্রতিটি তেল পাম্পে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা যায়| কোন কোন পাম্পে ৩০০ টাকার তেল আবার কোন কোন পাম্পে ৫০০ টাকার তেল দেয়া হয়| ডিজেলের ক্ষেত্রে হারভেস্টারে তেল নিতে কৃষি অফিসারের প্রত্যয়ন লাগে| ট্রাক্টর বা স্যালো মেশিনের জন্য লাইনে তেল নিতে হয়|
স্থানীয়রা জানান, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে ফুয়েল কার্ড করতে পারেন নি এমন সব বাইকাররা গাংনী বিভিন্ন পাম্পে এসে তেল নিয়ে যাচ্ছে| অনেকেরই গাড়ির কোন কাগজপত্র নেই| স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের আশীর্বাদে তারা বেশি করে তেল নিয়ে তা গাগি থেকে আনলোড করে আবারো তেল নিতে আসছেন|
এতে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন আরো দীর্ঘ হচ্ছে| কিছু বলতে গেলেই শুরু হচ্ছে হাঙ্গামা| আবার অনেকেই ট্রাক্টর বা কন্টেইনারে করে তেল নিয়ে গোপনে মজুদ করছেন| ইতোমধ্যে গাংনী ও মেহেরপুরে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে সেই তেল জব্দ করেছেন|
পাম্পের শ্রমিকরা জানান, যে মোটর সাইকেল আজকে তেল নিচ্ছে সেই মোটর সাইকেলই একদিন পরে তেল নিতে আসছে| এমনকি এক পাম্প থেকে তেল নিয়ে আবার অন্য পাম্পে লাইন দিচ্ছেন| তেল নিয়ে মোটর সাইকেল থেকে বের করে বোতলজাত করে অন্য লোকের কাছে বিক্রি করছেন চড়া দামে|
এ অভিযোগ সকলেরই মুখে মুখে| ৫০০ টাকার তেলে অন্ততঃ ৫/৭ দিন চলা কথা| অথচ একদিন পরই লাইনে দাড়াচ্ছে মোটরসাইকেল গুলোর মালিক| ফলে তেল দিয়ে সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছে না|
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাম্প মালিকের শ্রমিকরা জানান, পাম্পে স্থানীয়দের প্রভাব বেশি| যারা লাইনে দাড়িয়ে থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা তারা তেল পাচ্ছেন না অথচ স্থানীয়রা প্রভাব খাটিয়ে তাদের অনুগতদেরকে তেল দিতে বাধ্য করছেন| এতে বাইরের লোকজন পাম্পের শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটছে|
সম্প্রতি গোপালনগর রুপক তেলপাম্পে এক বিএনপি নেতাকে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়| পরে সকলে বলে মিমাংশা করেন| অনেকেই তেল নিয়ে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা লিটারে বিক্রি করছেন| ঙযাদের মোটরসাইকেল ও স্যালোমেশিন আছে তাদের বাড়িতে তল্লাশী চালালে মজুদকৃত তেল পাওয়া যাবে|
বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল মালিক ও কৃষকের সাথে কথা বলে বাস্তব চিত্র পাওয়া গেছে| তারা জানান, তেল দেয়ার আগের রাতে তারা মোটরসাইকেল ও ডিজেলের জন্য কনটেইনার রেখে পাম্পের পাশে ঘুমিয়ে থাকেন| সকালে তেল দেয়া শুরু হলেশুরু হয় যাচাই বাছাই|
মোটর সাইকেল চালকদের কিছুটা সস্তি মিললেও ১২/১৩ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর কৃষক পাচ্ছেন ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার তেল| এতে সেচ কাজ চলে না| ভরা মৌসুমে সেচ দিতে না পারলে ফষলহানী হবে|
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, তেল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে| তারা সেখানে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তেল সরবরাহ করার জন্য| তারপরও কোন সমস্যা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন| তারা মোটরসাইকেলের ˆবধ কাহজপত্র দেখে তেল দিচ্ছেন|