নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
মুসল্লিরা যাচ্ছে ফজরের নামাজ আদায় করতে। আরেক দল মানুষ ষাঁড়ের লড়াই দিতে ব্যস্ত। এটা শুধু ষাঁড়ের লড়াই নয়, নেপথ্যে থাকছে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা। এটা শুধু আজকেই নয়, প্রভাবশালী মহল বুবা প্রাণী ষাঁড় দিয়ে প্রায়ই এরকম জুয়ার আসর জমায়। এ নিয়ে স্থানীয়রা ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর বেলায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লী গ্রামে এ ষাঁড়ের লড়াই দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি প্রশাসন ম্যানেজ করে চলে এসব ষাঁড়ের লড়াই। যদিও পুলিশ দাবি করছে খোঁজ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিছুদিন আগে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ষাঁড় নিলামে বিক্রিও করে দেন প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলায় সপ্তাহে দুইদিন এই লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়। প্রতিবারই কয়েক জোড়া ষাঁড়কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এ লড়াই চলে। দর্শকদের মধ্যে চলে ব্যাপক জুয়া। আজ বুধবার ফজরের নামাজের পরপরই শুরু হয় এই আয়োজন।
এতে স্থানীয়রা সহ পাশের জেলা কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত জুয়ারী লোক জড়ো হন। এতে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয়। প্রভাবশালী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মদদে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালু রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং ভয়ে অনেকে বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, প্রায় প্রতি মাসেই একাধিকবার এ ধরনের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না। প্রশাসন সক্রিয় থাকলে এমন অবৈধ আয়োজন সম্ভব হতো না। তাদের দাবি এর সাথে স্থানীয় প্রশাসন জড়িত আছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সহকারী কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ জানান, শুনেছি আজ ভোরে একটি ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে ষাঁড়ের লড়াইয়ের মধ্যে জোয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।