নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৬নং রাজগাতী ইউনিয়নে এলজিইডি দপ্তরের (জাইকা) তহবিলের মাধ্যমে প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ না করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানাগেছে, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়ে) সংশোধিত এর আওতায় বাস্তবায়িত দুল্লি বিল (এসপিনং-৭৬১৪৯) উপ প্রকল্পের দুল্লি বিল খাল পুন: খনন কাজ করার জন্য ৬টি প্রকল্প কমিটির আওতায় ৬৭লাখ ৪৩হাজার ১৭৭টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
স্থানীয় ৬জন ব্যক্তি যথাক্রমে মোঃ আজিজুর রহমান (তারা মিয়া), কাজল মিয়া, মোঃ হারিস উদ্দিন ভূইঁয়া, জিয়ারুল ইসলাম. আবু সাইয়িদ ও মোঃ মহির উদ্দিনকে প্রকল্প সভাপতি করে প্রকল্প বরাদ্দ করা হয়। ইতি মধ্যে প্রকল্পের ৫০% টাকা প্রকল্প সভাপতি গন উত্তোলন করে সিডিউল মোতাবেক কাজ না করে প্রকল্পের বাকী টাকা উত্তোলন করার জন্য ফাইল প্রসেস করে যাচ্ছে। জাইকা প্রকেল্পর আওতায় খালের দৈঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা সঠিকভাবে মাটি কাটা হয় নাই। একটি প্রভাবশালী চক্র এর পিছনে জড়িত থেকে বাকী টাকা কাজ না করে উত্তোলন করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে বৃষ্টি হওয়ায় খালে মাটি কাটানোর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, দুল্লি বিল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ সমবায় বিভাগ থেকে রেজিকৃত একটি সমিতির সদস্যদের মাধ্যমে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় সমিতিটি রেজিস্ট্রী করা হয়। সমিতির সভাপতি মোঃ আক্কাস আলী ও সেক্রেটারী আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মামুন মেম্বার। পাছদরিল্ল্যা গ্রামে এই সমিতির নামে অফিস ভবন নির্মাণ করার জন্য ৪৫লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
সমিতির এই ভবন নির্মাণ করার কোন প্রয়োজন আছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন না। উক্ত বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল মালেক বিশ্বাস জানান, প্রকল্পের কাজটি এখনও চলমান। প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ না হলে চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হবে না। অনিয়ম, দূর্নীতির বিষয়ে এলাকাবাসী আমাদের জানিয়েছেন। আমরা তা তদন্ত করে দেখব। কাজ না করে টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না। উক্ত বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) এর মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।