নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বড়খাপন ও পোগলা ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে সংঘর্ষে হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন। রবিবার (০৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার দত্তখিলা-নাগেরগাতী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বাঁধ নিয়ে বরখাপন ও পোগলা ইউনিয়নবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে বিষয়টি রবিবার রাতে নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন।
আহতরা হলেন- ইসরাফিল (২৬), হেলাল শেখ (৬৫), মো. ইলিয়াস (৩৫), মুহাম্মদ (৪৫), মো. আনিস (২২), রুবেল (৩০), জুয়েল (২৫), রব মিয়া (৪২), আজাহারুল ইসলাম (২৬), মাসুদ (৪০), জামাল (৪০), আ. কাইয়ুম (৩৫), হাক্কুল (৩২) ও তফিকুল ইসলাম (২৫)সহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলমাকান্দা উপজেলার মেদার বিল ও কান্দুলিয়া বিল। মেদার বিলে পানি ঢুকে পড়লে সেখানে চাষ করা বোরো ধান তলিয়ে যাবে। এ কারণে বড়খাপন ইউনিয়নের কৃষকরা ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করেন।
অপরদিকে এ বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে পোগলা ইউনিয়নের কান্দুলিয়া বিলের ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ নিয়ে দুই ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ২০জনের মতো আহত হয়।
তবে সংঘর্ষ চলাকালে পোগলা ইউনিয়নের কিছু লোক দত্তখিলা-নাগেরগাতী ফসল রক্ষা বাঁধের একটি অংশ কেটে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পোগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের এলাকার মেদা বিলের প্রায় ৯০০একর ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো সমাধান পাইনি।
পরে ভুক্তভোগী কৃষকরা একত্রিত হয়ে মেদা বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য আংশিক বাঁধ কেটে দেন। এরপর বড়খাপন ইউনিয়নের লোকজন মাইকিং করে দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।
বাঁধ নিয়ে দুই ইউনিয়নবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বিষয়টি স্বীকার করে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে।