মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ছাড়াও মসজিদে খুতবায় খড় পোড়ানোর কুফল ও ক্ষতিকারক দিক তুলে ধরে বয়ান দেয়ার পরও কোন মতেই থামছেনা খড় পোড়ানো। ফলে অগ্নীকান্ডে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মাত্র দু‘দিনের ব্যবধানে আজ শনিবার দুপুরে আবারও খড় পোড়ানো অগ্নিকাণ্ডে উপজেলার চোখতোলা মাঠে প্রায় ২০ বিঘা জমির গমসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি থেকে গম কাটার পর অবশিষ্ট খড় পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে আজিজুল নামের এক কৃষক পরিত্যক্ত খড়ে আগুন দেন। কিন্তু প্রচণ্ড রোদ ও বাতাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পাশের জমিগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী প্রথমে নিজ উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে ততক্ষণে প্রায় ২০ বিঘা জমির গমসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভুক্তভোগী কৃষক মজনু জানান, আগুনে তার জমির গমের পাশাপাশি ইঞ্জিনচালিত পানি তোলার শ্যালো মেশিনও পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছালে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো বলে তিনি দাবি করেন। ভুক্তভোগী কৃষক বদিরুল ও রুহুল জানান, তাদের ১৬ বিঘা জমির গম আগুনে পুড়ে গেছে। রোববার তাদের গম কাটার কথা ছিল।
অপর কৃষক আব্দুল হালিম জানান, আগুনে তার আম ও কলা বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ এপ্রিল উপজেলার শিমুলতলা হাড়িয়াদহ মাঠে মাত্র ৫ কাঠা জমির খড় পোড়াতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০০ বিঘা জমির ফসল পুড়ে যায়।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, খড় না পোড়ানোর জন্য মাইকিং জুম্মার খুতবায় বয়ান দেয়া হয়েছে। তারপরও কিছু কৃষক এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করছেন। এতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। চোখতোলার মাঠের অগ্নীকান্ডের খবর পেয়ে সেখানে একজন উপসহকারী কৃষি অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বিভিন্ন ফসল রক্ষা পেয়েছে।