পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে গণপিটুনিতে উজ্জ্বল কর্মকার (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে তরমুজ চাষি ফিরোজের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ওরফে সেরাজ ডাক্তারের ছেলে মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল এ চাঁদা দাবি করে।
ঘটনার দিন বিকেলে ফিরোজ তার তরমুজ ক্ষেত থেকে ফসল সংগ্রহ করে ট্রলারে তুলছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে তরমুজ কাটা বন্ধ করে দেয় এবং পুনরায় ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ফিরোজ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
ফিরোজের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের মধ্যে মিজানুর রহমান (৪৫), উজ্জ্বল কর্মকার (৩০) ও শামীম (৩৫)কে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উজ্জ্বল কর্মকার মারা যান। আহত ফিরোজ ও শামীমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তরমুজ কাটতে নিষেধ করা হয়েছিল। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষ হয় এবং উজ্জ্বলের মৃত্যু ঘটে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাঁদাবাজির গল্প তৈরি করা হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।