নীলফামারীর ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা মতে, এর আগে এ ধরণের শিলাবৃষ্টির ব্যাপকতা কখনও দেখেনি জেলার মানুষ।
শনিবার মধ্যরাতে ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টির সাথে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী শিলাবৃষ্টিতে জেলার ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টা, মরিচ, আলু, বোরো ধান ক্ষেতসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক স্থানে জমির ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়েছে গাছের লতা-পাতা ও কান্ড। এছাড়া শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় বহু বসতবাড়ির টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। এসময় রাতের অন্ধকারে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন লোকজন।
অনেকের ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েতে হয়। শুধু বসতবাড়িই নয়, জেলার বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি পূজা মন্ডপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, শিলাবৃষ্টিতে আমার দুই বিঘা জমির ভূট্টা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং এক বিঘা জমির মরিচের গাছের ডালপালা ছিঁড়ে তছনস হয়েছে।
জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়ড়ের গড় ধর্মপাল গ্রামের জহির উদ্দিন জানান শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তার একটি টিনের ঘরের সব টিন ফুটো হয়ে গেছে। তার জীবনে এরকম শিলাবৃষ্টি দেখেনি বলে তিনি জানান।
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান বলেন রাতে ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করছেন। মাঠ পরিদর্শন শেষে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।