পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তরমুজ চাষিদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগে মো. অলিউল্লাহ্ ওরফে অলি নামের এক উপ-খাদ্য পরিদর্শককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদরের হাসপাতাল সড়ক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তরমুজ চাষি আরব আলীসহ রাঙাবালী ও চরফ্যাশন উপজেলার একাধিক চাষি দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গাছে ফল আসার পর অলিউল্লাহ ওরফে অলির নেতৃত্বে একটি চক্র ওই জমির মালিকানা দাবি করে চাষিদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তরমুজ উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি মাসের শুরুতে চাষিরা প্রায় ৯ হাজার তরমুজ সংগ্রহ করে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে মোকামে পাঠানোর প্রস্তুতি নেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা। গত ১৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে অলি ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে চাঁদা দাবি করে। চাষিরা অস্বীকৃতি জানালে তারা তরমুজ বোঝাই ট্রলার দুটি জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত অলি ১০ হাজার টাকা নিয়ে একটি ট্রলার—যাতে প্রায় ৪ হাজার তরমুজ ছিল—ফেরত দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনায় ভুক্তভোগী চাষি আরব আলী বাদী হয়ে বাউফল থানায় অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অলিউল্লাহকে গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।