মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দরজারপাড়া এলাকায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো মামলা দায়ের না হওয়ায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনার পেছনে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও অটোরিকশার ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
নিহত মোয়াজ্জেম মোল্লা (২৯) সদর উপজেলার শিলই গ্রামের তমি মোল্লার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে দুটি ও মাদক আইনে দুটিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মার্চ শিলই ইউনিয়নের হৃদয়, আরাফাত ও আসাদ পাঠান পার্শ্ববর্তী মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আকাল মেঘ গ্রামের মন্টু দেওয়ানের অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে ব্যাটারি চুরি করেন। এ ঘটনায় ১৪ মার্চ দুই পক্ষের মধ্যে সালিস অনুষ্ঠিত হয়। সালিসের পর মন্টু দেওয়ান পক্ষের ওপর অস্ত্রসহ হামলার অভিযোগ ওঠে, যেখানে মোয়াজ্জেম মোল্লাও জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় মন্টু দেওয়ানের বাবা আলমাস দেওয়ান বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় একজন গ্রেপ্তার হলেও মোয়াজ্জেমসহ অন্য আসামিরা পলাতক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, ঈদের দিন মোয়াজ্জেম নিজ এলাকায় না গিয়ে টঙ্গীবাড়ীর দরজারপাড়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
অন্যদিকে নিহতের পরিবার দাবি করছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের মা রেনু বেগম বলেন, তার দেবর হাফিজ উদ্দিন মোল্লার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং পূর্বে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তার দেবরের ছেলে মেজবাহ ও ফেরদৌস ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করিয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবার এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।