মো:ফারুক আহমেদ , (ঘাটাইল)
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় মৎস্য অফিসের লোক এসেছে বলে ডেকে এনে এক মাছ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম এবং অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আহত অভিযোগকারী উপজেলার ৫ নং আনেহলা ইউনিয়নের ডাকাতিয়া গ্রামের মৃত কাঞ্চিরাম বর্মনের ছেলে অভিলাশ চন্দ্র বর্মন (৪৭)। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী।
অভিলাশ চন্দ্র বর্মন জানান, গত ১৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্ত আজিম উদ্দিন তাকে মোবাইল ফোনে জানায়, ঘাটাইল মৎস্য অফিস থেকে লোক এসেছে। তাকে দ্রুত ডাকাতিয়া গ্রামে অবস্থিত আজিম উদ্দিনের মাছের খামারে যেতে বলা হয়।
বিষয়টি বিশ্বাস করে সেখানে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তাকে আটক করে। প্রথমে তাকে হাত-পা বেঁধে খুনের উদ্দেশ্যে বেদম পিটিয়ে নাক ও মুখে গুরুতর জখম করা হয়। পরে আজিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলে, “মাছের পোনা বিক্রি না করে দিয়ে এবং আড়ৎদারের কাছ থেকে দাদনের টাকা এনে না দিয়ে আমাকে অনেক ক্ষতি করেছিস। এই ক্ষতির টাকা তোকে দিতে হবে।”
একপর্যায়ে আসামিরা মৃত্যু ও গুরুতর জখমের ভয় দেখিয়ে অভিলাশ চন্দ্র বর্মনের কাছে জোরপূর্বক চারটি ১০০ টাকার অলিখিত স্ট্যাম্পে টিপসই (আঙুলের ছাপ) নেয়। ঘটনাস্থল থেকে ছেড়ে আসার সময় অভিযুক্তরা তাকে চড়থাপ্পর মেরে হুমকি দেয় যে, কাউকে কিছু জানালে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের “জানে মেরে ফেলা হবে”। পিটুনিতে গুরুতর আহত অবস্থায় অভিলাশ চন্দ্র বর্মনকে প্রথমে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ছেলের মাধ্যমে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের মোঃ আজিম উদ্দিন (৩০), মোঃ ফরিদ হোসেন (২৫), মোঃ রাব্বি হোসেন (২৮) ও মোঃ আপন হোসেনের (২৯) নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত আজিম উদ্দিন মামলা হওয়ার কারণে বাড়ি থেকে সরে আছেন।
তার স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম সুচনা দাবি করেন, জেলেরা যে অভিযোগ করেছেন তা ভিত্তিহীন। পূর্ব থেকে অভিলাশের সাথে মাছ বিক্রির টাকা ফিরিয়ে না দেওয়ার কারণে বিরোধ চলছিল। ঘাটাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাষ চন্দ্র বসু জানান, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।