নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের নলডাঙ্গায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অপরাধমূলক ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর প্রশ্ন উঠছে যে,রাজনৈতিক দলটির নেতাকর্মীরা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং দলটি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দলটির জেলা-উপজেলার নেতারা।
দুই,একজনকে বহিষ্কার ছাড়া,অন্যদের রাখা হয়েছে,অদৃশ্য ছত্রছায়ায়। যার মধ্যে রয়েছে,শ্রমিকদল নেতা,সাবেক বিএনপির ওর্য়াড পর্যায়ের নেতা ও যুবদল নেতা,বিএনপি কর্মী সর্মথকরা অন্যতম।
যদিও গত বছর পাঁচই অগাস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকে নানা অপরাধমূলক ঘটনায় নাম আসার পর দলটির বিভিন্ন স্তরের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি।
তারপরেও হামলা,হুমকি,লাঞ্চিত,থানায় প্রভাব বিস্তারসহ নানা ধরনের অভিযোগ প্রতিনিয়তই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পিপরুলের শ্যামনগরে শ্রমিকদলের নেতাকতৃক পুরুস্কার প্রাপ্ত মৎস্যচাষীকে গাড়ি থামিয়ে মারধর ছাড়াও,বিভিন্ন এলাকায় আরও কিছু ঘটনা আলোচনায় এসেছে।
এছাড়া উপজেলার পিপরুলের,বাঁশভাগ পূর্বপাড়া,সূর্যবাড়ি,ব্রহ্মপুরে সরকুতিয়া,মাধনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় উৎশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের দ্বারা সাধারন ভোটারদের লাঞ্চিত,হামলা নানা কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,মাঠ পর্যায়ে অনেকে শুরুতে ক্ষোভ থেকে হামলা ও হাঙ্গামায় জড়িয়েছেন। এখন আবার বহু বছর পর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর,নেতা,কর্মী সমর্থকরা অপরাধে জড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে নেতারা কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায়,এ সুযোগেই অনেকে অপরাধে জড়াচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে বিএনপি নেতারা বলছেন,যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ইতোমধ্যেই তারা বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। সেই সাথে প্রশাসনকেও আহবান জানিয়েছেন যে কেউ অন্যায় করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
এসব নিয়েই প্রায় সব জায়গাতেই দলের মধ্যেই গ্রুপিং ও কোন্দল বেড়েছে। কিন্তু অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের কৌশলে আশ্রয়-প্রশয় দেওয়ায় দলটির সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড ততটা কার্যকর হয়ে ওঠেনি। যা আগামী নির্বাচন গুলোতে প্রভাব ও জনসর্মথণে প্রশ্নে থেকে যাচ্ছে।
গ্রামে বা শহরে নতুন নতুন হাইব্রিটদের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপক হারে। তারা বর্তমান সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের কিছু পাতি নেতার আশ্রয়-পশ্রয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে মারাত্মকভাবে।
অনেকে কথিত নেতার ছত্রছায়ায় বাইরেও নানা অপকর্মে মেতে উঠেছে এই হাইব্রিটরা।
মাঝে ফায়দা লুটছে সরকার দলের সেই পাতি নেতারা৷ এখনোই তাদের না থামালে সরকারকে খুব দ্রুতই বিপাকে পড়তে হবে।
এছাড়া নলডাঙ্গায় বিএনপি ঘাঁটিতে ভাগ বসিয়েছে জামায়াত। এই উপজেলায় বরাবর দাপট ছিলো বিএনপির। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জিতেছে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু এলাকায়,যা ছিলো বিএনপির ঘাঁটি।
অনেকে বলছেন,দলের দাপটে কথিত ও নামধারী বিশৃঙ্খল নেতাকর্মীরা সাধারন জনগনের উপর চড়াও,দলের জন্য নিবেদিত প্রান কর্মীদের অবজ্ঞা,কিছু নেতাকর্মীদের একক আধিপত্য,আইন-নিময়-শৃঙ্খলা বিষয়ে অজ্ঞতা,দলে গোপনে হাইব্রিট ও তেলবাজদের অবস্থান,এছাড়া দীর্ঘদিন কোণঠাসা থাকায় নির্বাচনের মাঠ গোছাতে বেগ পেতে হয়েছে বিএনপিকে। ফলে এখানে একক আধিপত্য হারিয়েছে দলটি।
এশিয়ান টিভি,মানবজমিন পত্রিকার নলডাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,সরেজমিনে ও বিশ্লেষন করে দেখা যাচ্ছে,সংসদ নির্বাচনের পর হাইব্রিট ও অতিউৎসাহী নেতাকর্মীরা,ব্যাক্তিগত বিষয় বা শত্রুতাকে নির্বাচন/রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে সাধারন ভোটারদের উপর চড়াও,
বিদ্বেষমূলক কাজ,লাঞ্চিত,সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হওয়ায় তৃনমূলে বিএনপির অবস্থান নড়বড়ে হচ্ছে। অন্যদিকে অন্যদলগুলো এই ইস্যুগুলোকে কাজে লাগিয়ে,নিজের অবস্থান শক্ত করছে।
এদিকে বিএনপির নাটোর সদর-নলডাঙ্গা-২ আসনের নেতৃবৃন্দ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান,সকল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে বিশেষ ভাবে বিনয়ের সহিত অনুরোধ করছি,
কোন প্রকার হঠকারী সিদ্ধান্তে আপনারা যাবেন না এবং জামাতসহ কোন সংগঠনের নেতাকর্মীর উপর কোন প্রকার চড়াও হবেন না কোন বিদ্বেষমূলক কাজ করবেন না কেউ কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকলে বা হলে তাহলে এমপি সাহেবের নির্দেশক্রমে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে,মর্মে বিশেষ অনুরোধ ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক,মনিরুল ইসলাম ডাবলু জানান,ইতিমধ্যে উপজেলার পিপরুলের শ্যামনগর,বাঁশভাগ পূর্বপাড়া,সূর্যবাড়ি,ব্রহ্মপুরে সরকুতিয়া,মাধনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় উৎশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের দ্বারা সাধারন ভোটারদের লাঞ্চিত,হামলা নানা কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
যার ফলে শুক্রবার(২৭ ফ্রেবুয়ারি) উপজেলার বাঁশভাগ পূর্বপাড়া মারামারি ঘটনায় যুবদল থেকে দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য এলাকায় সাধারন লোকজনদের হামলার ঘটনায়,জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যার ফলে,আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে তারা। অন্যদিকে দল থেকে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে তৃণমূলে অবস্থা হারাচ্ছে বিএনপি।
বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনার বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মোঃ নুরে আলম বলেন,নলডাঙ্গা থানা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সবসময় সর্তক রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে মারামারির ঘটনায় মামলা ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করছি।
নাটোরে অন্যায়, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান আর থাকবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন,জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
তিনি বলেন,আজ থেকে আগামী ৫ বছর নাটোরে মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাস্তানি সহ সকল ধরনের অনাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। যত বড় শক্তিশালী সন্ত্রাসী হোক না কেন, তাকে গ্রেফতার করতে হবে। নাটোরের মানুষ আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সঠিকভাবে পালনে সকলের সহযোগিতা চাই।
সোমবার(১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় হুইপ দুলু এসব মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু, নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানসহ জেলার সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।