মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ফসলি জমির মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অভিযানে অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ার পর উল্টো মাটি সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইটভাটা মালিক, মাটি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী এলাকায় ইটভাটা মালিক সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ শ্রমিক, মাটি ব্যবসায়ী ও ইটভাটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজদিখানের লতব্দী ইউনিয়ন এলাকায় বৈধ ও অবৈধভাবে পরিচালিত প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি ইটভাটায় দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির মাটি কেটে ইট উৎপাদন করা হচ্ছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনও বিকল করে দেওয়া হয়। এতে ইটভাটাগুলোতে মাটির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এর প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, মাটির সরবরাহ বন্ধ থাকায় ইট উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং অনেক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে বৈধ ইটভাটাগুলোতে পুনরায় মাটি সরবরাহের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
তবে এই মানববন্ধনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করতে চাইছে এবং সেটিকে বৈধতা দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, সাধারণত অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। কিন্তু এখানে উল্টো ফসলি জমির মাটি কাটার দাবিতে মানববন্ধন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তাদের মতে, এভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।