রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
বরগুনার আমতলী পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ডোবা ও নালা দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। এসব ডোবার পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছির বংশবিস্তার ঘটছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাসিন্দারা মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত ডোবা-নালা পরিষ্কার করে মশা নিধনের দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে আমতলী পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পৌর শহরের বিভিন্ন ডোবা ও নালা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৭ বছরে এসব ডোবা-নালা পরিষ্কার বা সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে বছরের পর বছর ধরে এসব স্থানে পচা পানি ও আবর্জনা জমে পরিবেশের অবনতি ঘটছে।
শুক্রবার পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চারপাশের লেক, এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের লেক, সবুজবাগ লেক, চাওড়া লেক, খোন্তাকাটা লেক, বকুলনেছা মহিলা কলেজের লেক এবং আমতলী সরকারি কলেজের লেকসহ বিভিন্ন স্থানের ডোবা-নালায় ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। অনেক জায়গায় ডোবার পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
মিঠাবাজার এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়া বলেন, ডোবা-নালা ময়লায় ভরে গেলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তা অপসারণে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এসব স্থানে বড় বড় মশা জন্ম নিচ্ছে। মশার তাড়নায় ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।
সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গোপাল মাঝি বলেন, ডোবার পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশা ও মাছির উপদ্রব বাড়ায় পরিবেশও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একই এলাকার বাসিন্দা অসীম মৃধা বলেন, ময়লায় প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে। রাতে এসব মশা বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, মশার যন্ত্রণায় ঘরে টেকা মুশকিল হয়ে গেছে। কিন্তু মশা নিধনে পৌরসভা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিত্যক্ত ডোবা-নালাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মশা নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌর শহরের ডোবা-নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।