দুমকী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকিতে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলাকে কেন্দ্র করে মামলার বাদির বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে আসামি করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রেফতার ও জামিনের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুমকি থানায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুই থেকে আড়াইশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মর্তুজা। ওই মামলায় ইতোমধ্যে পুলিশ ৩০ থেকে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং বাকিদের অনেকেই জামিনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার থেকে লক্ষ্য টাকা পর্যন্ত আদায়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পরে জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আবারও অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর তার কাছেও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ডাকা একটি সভা থেকে তাকে বাইরে ডেকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
একই ইউনিয়নের রাকিব হাসান বাবু নামে এক যুবককে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে তাকে ছাড়িয়ে নিতে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও বাকি টাকা না দেওয়ায় পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিকে টাকা দিতে না পারায় ছেলেকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবুর মা শাহনাজ বেগম। তিনি দেশে আইন-বিচার আছে কি না—এমন প্রশ্ন তোলেন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, মর্তুজার একই বাড়ির বাসিন্দা ইউসুব মোল্লাকে কোনো মামলা ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করে বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আদালতে পাঠিয়েছে। এতে মামলার বাদির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে পরিবারের সন্দেহ।
এ ছাড়া মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের কয়েকটি পরিবারের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, টাকা না দিলে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে। ফলে অনেকেই ভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
অন্য একটি সূত্র জানায়, মর্তুজার আপন ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন। একই সময়ে মামলার ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মামলার বাদি গোলাম মর্তুজা তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুমকি থানার এসআই অহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, তার যোগদানের আগেই মামলাটি হয়েছে। বাদি টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত—এমন কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।