রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
বরগুনার আমতলী উপজেলার কেওয়াবুনিয়া এলাকায় দীর্ঘদিনের পানির সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তরমুজ চাষ। খেতে সেচের পানি না থাকায় অনেক কৃষকের তরমুজের চারা শুকিয়ে মারা যাচ্ছিল। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন স্থানীয় চাষিরা। তবে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের উদ্যোগে সেই সংকট অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুকুয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কেওয়াবুনিয়া বিল এলাকায় চলতি মৌসুমে অনেক কৃষক তরমুজের আবাদ করেছেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
ফলে তরমুজ গাছ শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং অনেক চারা ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।
এ অবস্থায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম মাতুব্বর নিজের অর্থায়নে ছয়টি পানির পাম্প মেশিনের ব্যবস্থা করেন। ওই পাম্পের মাধ্যমে বিলের খালে পানি তুলে খাল ভরাট করা হয়, যাতে কৃষকেরা সহজে জমিতে সেচ দিতে পারেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, পানির অভাবে তাদের তরমুজ চাষ প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ইউপি সদস্যের এই উদ্যোগের ফলে এখন খালে পানি পাওয়া যাচ্ছে এবং তারা জমিতে সেচ দিতে পারছেন। এতে তরমুজ ক্ষেত আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
কেওয়াবুনিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, পানির সংকটে আমরা খুব বিপদে ছিলাম। অনেক তরমুজ গাছ শুকিয়ে যাচ্ছিল। মেম্বার সাহেব নিজের উদ্যোগে পাম্প বসিয়ে খালে পানি তুলে দিয়েছেন। এখন আর সেচের পানি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না।
ইউপি সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, কৃষকেরা আমাদের এলাকার প্রাণ। তাদের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাম্প মেশিনের ব্যবস্থা করে খালে পানি তোলার উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে কৃষকেরা তাদের ফসল বাঁচাতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইউপি সদস্যের এই উদ্যোগে কেওয়াবুনিয়া এলাকার তরমুজ চাষে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এজন্য গ্রামবাসী তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।