মোঃআতেফ ভূঁইয়া গাজীপুর সদর
গাজীপুরে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার বায়না ধরাকে কেন্দ্র করে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে শালবনের গভীরে নিয়ে হত্যা করে মাটি চাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বড়ভাই ও বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিখোঁজের ২৫ দিন পর পুলিশ অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই ও তার এক বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন তার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
নিহত আঃ রাহিম (১৩) গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার ডগরী নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম ওরফে কোহিনূরের ছেলে। তিনি স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহতের বড়ভাই মোঃ আলামিন হোসেন (২৩) এবং একই এলাকার আশিক আহমেদ (২০)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাহিম নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের প্রায় ২৫ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি রিসোর্ট সংলগ্ন গভীর শালবনের ভেতর আংশিক মাটি চাপা দেওয়া অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সময় কয়েকজন কিশোর টিকটক ভিডিও করতে শালবনের ভেতরে গেলে দুর্গন্ধ পেয়ে খোঁজ করতে গিয়ে লাশটি দেখতে পান। পরে পোশাক দেখে নিহত রাহিমকে শনাক্ত করেন তার বাবা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে মঙ্গলবার আলামিন ও আশিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে সোপর্দ করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য রাহিম তার বাবার কাছে জোরাজুরি করছিল। বিষয়টি দেখে বড়ভাই আলামিন তাকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করে বন্ধুদের সঙ্গে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাহিমকে শালবনের গভীরে নিয়ে যায় তারা। সেখানে তাকে মাফলার দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ পেঁচানো হয়। পরে স্কচটেপ খুলে দিলে রাহিম বাবাকে সব বলে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে ভয় পেয়ে আলামিন ও তার বন্ধুরা তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে আলামিন গলাটিপে রাহিমকে হত্যা করে। পরে পাশেই গর্ত করে লাশ মাটি চাপা দেয়। ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে রাহিমের জ্যাকেট পুড়িয়ে ফেলে তারা।
পুলিশ সুপার জানান, নিখোঁজের পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয় এবং প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।