মঈন উদ্দীন,বান্দরবান
বান্দরবানের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা সাশৈপ্রুকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা স্বাক্ষর করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, সাশৈপ্রু বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর হাত ধরে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
নেতৃবৃন্দ জানান, ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান বান্দরবানের সুয়ালক সফরকালে সাশৈপ্রু তার আপ্যায়নের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে টাউন হলে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপি কাউন্সিলে গঠিত কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১/১১ পূর্ববর্তী সময় থেকে দলের সব কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নানা নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। অবরোধ ও হরতালসহ বিভিন্ন কঠোর আন্দোলনে অংশ নিয়ে বহুদিন ঘরছাড়াও ছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। কর্মীবান্ধব ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে বলে নেতারা জানান। পাশাপাশি তিনি বোমাং সার্কেলের রাজপ্রথার ৩৬৩নং আলেক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান (মৌজা প্রধান)।
আবেদনে তার পারিবারিক পরিচয়ও তুলে ধরা হয়। তিনি বোমাং রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য এবং বর্তমান বোমাং রাজার চাচাত ভাই। নেতৃবৃন্দের দাবি, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে সাশৈপ্রু বান্দরবান পার্বত্য জেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
এ বিষয়ে সাশৈপ্রু বলেন, ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান তার কাঁধে হাত রেখে পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি আজও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।
জেলা বিএনপির নেতারা বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে সাশৈপ্রুই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সবচেয়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। তাই তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য তারা জোর দাবি জানিয়েছেন।