কুমিল্লায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কুমিল্লা ১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। অভিযোগ উঠেছে, যেসব বিএনপি নেতাকর্মীর স্ত্রী দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন, তাদের তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকালে লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোবাশ্বের আলম এ মন্তব্য করেন। পরে তার বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলায় বলে ‘আমি কী করতাম?’ সে নাকি কথা দিয়ে ফেলেছে। তাইলে তুই হেতিরে তালাক দিয়ে দে। যে বউ স্বামীর কথা শুনে না, স্বামীকে মানে না, এমন বউকে তালাক দিয়ে দে।’ এই বক্তব্যকে অনেকে ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমার দলে কিছু মোনাফিক আছে, যারা বিএনপি করে কিন্তু ভোট দিয়েছে দাঁড়িপাল্লায়। অর্থ দিয়েও জামায়াতকে সহযোগিতা করেছে। আবার কেউ কেউ আছে, যারা বিএনপি নেতা হলেও তাদের বউ ভোট দিয়েছে জামায়াতকে। তার এই বক্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের প্রশ্নকে সামনে আনা হলেও, সমালোচকদের মতে, ভোটাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নও এতে জড়িয়ে গেছে।
ভিডিওতে মোবাশ্বের আলম আরও বলেন, যারা নির্বাচনের আগে আমার বিরোধিতা করেছে, তারাই এখন ঢাকায় যাইয়া আমার লগে সেলফি তোলে। সেলফি তুইলা দোষ ঢাকতে চায়। আমি বলি, আরে চিটিং, তুই এতদিন কই ছিলি। নির্বাচনের দিন কই ছিলি। তিনি অভিযোগ করেন, আমার কাছে পাত্তা না পাইয়া এই হাইব্রিডগুলো আমার বদনাম করে। বলে কি না, ‘নেতা খারাপ ব্যবহার করে’। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গেছে।
এ ঘটনা ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে আবেগপ্রসূত রাজনৈতিক বক্তব্য বলে ব্যাখ্যা করছেন, আবার অনেকে বলছেন, একজন সংসদ সদস্যের মুখে এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। ভোট একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—এই যুক্তিও উঠে এসেছে সামাজিক মাধ্যমে।
ভিডিওর বিষয়ে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বা ব্যাখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন রাজনৈতিক মহলের নজরে।