শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হাসান মামুন কেন হারলেন?

মিজানুর রহমান,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল শুধু একটি নির্বাচনি লড়াই নয়; বরং এটি দুই উপজেলার রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা, গভীর বিভাজন এবং সাংগঠনিক সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি ও তৃণমূল সংগঠনের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা নেতা হাসান মামুন ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব […]

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হাসান মামুন কেন হারলেন?

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৯

মিজানুর রহমান,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল শুধু একটি নির্বাচনি লড়াই নয়; বরং এটি দুই উপজেলার রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা, গভীর বিভাজন এবং সাংগঠনিক সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন।

দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি ও তৃণমূল সংগঠনের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা নেতা হাসান মামুন ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে নিজ এলাকা গলাচিপায় দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক রাজনীতি করে শক্তিশালী একটি মাঠ তৈরি করেন। তৃণমূল পর্যায়ে তার বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও পটুয়াখালী-৩ আসনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়।

জোটের এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়। বিএনপি ও শরিক দলগুলোর ভোটব্যাংক মূলত জোট প্রার্থীর দিকে সরে যায়, যা হাসান মামুনের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। একইসঙ্গে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এসব সিদ্ধান্ত তার নির্বাচনি অবস্থানকে দুর্বল করে দেয় এবং সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যদিও স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত হাসান মামুনের পক্ষেই অবস্থান নেয়, তবে জোট প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার সক্রিয় ছিলেন। ফলে ভোট বিভাজন সৃষ্টি হয়, যা হাসান মামুনের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাসান মামুনকে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পরিবর্তে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হয়। এতে অনেক সাধারণ ভোটারের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে তার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগও ওঠে, যা প্রচার কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে।

এদিকে গলাচিপা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুরোনো ও নতুন মামলা দায়েরের ঘটনায় দলটির কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকায় প্রায় ৪৬ বছর পর এই আসনে তাদের ভোট একটি বড় নির্ধারক শক্তিতে পরিণত হয়। ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত ভিপি নুরুল হক নুরের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নির্বাচনের আগেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির বহু ত্যাগী নেতাকর্মী বহিষ্কার হন এবং একাধিক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে নতুন কমিটি গঠন করা হলেও এসব কমিটির নেতারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে জোট প্রার্থীর পাশে দাঁড়ান। তবে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলে এক ধরনের অস্বস্তি ও সম্ভাব্য সংঘাতের শঙ্কা রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যারা বছরের পর বছর হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছে এই নির্বাচন ছিল মূল্যায়নের একটি বড় পরীক্ষা। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।

শেষ পর্যন্ত পটুয়াখালী-৩ আসনে বিজয়ী হন বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর। অপরদিকে হাসান মামুনের পরাজয়ের পর তার সমর্থক ও বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও স্থানীয় মানুষের কাছে হাসান মামুন পরিচিত একজন সেবামুখী সমাজসেবক হিসেবে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব আন্দোলনে নিহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো, করোনা মহামারিতে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, শীতকালে কম্বল বিতরণ, পথশিশুদের সহায়তা, ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ বিনোদনে যুক্ত করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি—সব মিলিয়ে তার মানবিক কর্মকাণ্ড এলাকায় আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দিয়ে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনের এই নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তৃণমূলের ক্ষোভ প্রশমন, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ছাড়া দলীয় ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এই আসনের নির্বাচন তাই বিএনপির সামনে এক কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা—যেখানে বিজয়ের পাশাপাশি বিভাজন ও পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে এসে দাঁড়িয়েছে। দল ঐক্যের পথে ফিরতে পারবে, নাকি এই বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর সংকট তৈরি করবে—সেই প্রশ্নই এখন পটুয়াখালী-৩ এর মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।