মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হাসান মামুন কেন হারলেন?

মিজানুর রহমান,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল শুধু একটি নির্বাচনি লড়াই নয়; বরং এটি দুই উপজেলার রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা, গভীর বিভাজন এবং সাংগঠনিক সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি ও তৃণমূল সংগঠনের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা নেতা হাসান মামুন ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব […]

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হাসান মামুন কেন হারলেন?

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৯

মিজানুর রহমান,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল শুধু একটি নির্বাচনি লড়াই নয়; বরং এটি দুই উপজেলার রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা, গভীর বিভাজন এবং সাংগঠনিক সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন।

দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি ও তৃণমূল সংগঠনের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা নেতা হাসান মামুন ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে নিজ এলাকা গলাচিপায় দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক রাজনীতি করে শক্তিশালী একটি মাঠ তৈরি করেন। তৃণমূল পর্যায়ে তার বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও পটুয়াখালী-৩ আসনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়।

জোটের এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়। বিএনপি ও শরিক দলগুলোর ভোটব্যাংক মূলত জোট প্রার্থীর দিকে সরে যায়, যা হাসান মামুনের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। একইসঙ্গে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এসব সিদ্ধান্ত তার নির্বাচনি অবস্থানকে দুর্বল করে দেয় এবং সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যদিও স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত হাসান মামুনের পক্ষেই অবস্থান নেয়, তবে জোট প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার সক্রিয় ছিলেন। ফলে ভোট বিভাজন সৃষ্টি হয়, যা হাসান মামুনের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাসান মামুনকে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পরিবর্তে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হয়। এতে অনেক সাধারণ ভোটারের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে তার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগও ওঠে, যা প্রচার কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে।

এদিকে গলাচিপা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুরোনো ও নতুন মামলা দায়েরের ঘটনায় দলটির কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকায় প্রায় ৪৬ বছর পর এই আসনে তাদের ভোট একটি বড় নির্ধারক শক্তিতে পরিণত হয়। ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত ভিপি নুরুল হক নুরের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নির্বাচনের আগেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির বহু ত্যাগী নেতাকর্মী বহিষ্কার হন এবং একাধিক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে নতুন কমিটি গঠন করা হলেও এসব কমিটির নেতারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে জোট প্রার্থীর পাশে দাঁড়ান। তবে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলে এক ধরনের অস্বস্তি ও সম্ভাব্য সংঘাতের শঙ্কা রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যারা বছরের পর বছর হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছে এই নির্বাচন ছিল মূল্যায়নের একটি বড় পরীক্ষা। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।

শেষ পর্যন্ত পটুয়াখালী-৩ আসনে বিজয়ী হন বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর। অপরদিকে হাসান মামুনের পরাজয়ের পর তার সমর্থক ও বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও স্থানীয় মানুষের কাছে হাসান মামুন পরিচিত একজন সেবামুখী সমাজসেবক হিসেবে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব আন্দোলনে নিহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো, করোনা মহামারিতে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, শীতকালে কম্বল বিতরণ, পথশিশুদের সহায়তা, ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ বিনোদনে যুক্ত করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি—সব মিলিয়ে তার মানবিক কর্মকাণ্ড এলাকায় আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দিয়ে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনের এই নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তৃণমূলের ক্ষোভ প্রশমন, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ছাড়া দলীয় ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এই আসনের নির্বাচন তাই বিএনপির সামনে এক কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা—যেখানে বিজয়ের পাশাপাশি বিভাজন ও পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে এসে দাঁড়িয়েছে। দল ঐক্যের পথে ফিরতে পারবে, নাকি এই বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর সংকট তৈরি করবে—সেই প্রশ্নই এখন পটুয়াখালী-৩ এর মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।