নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার আটপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা করার অভিযোগ ওঠেছে। রবিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার অভয়পাশা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া নামে দুইজন আহত হয়েছে। তারা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মোখলেছুর রহমান পরশ উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সুবহান মিয়ার ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পরশ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বাচ্চু মিয়া একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি ও অভয়পাশা বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
অভিযুক্ত রবিকুল ইসলাম একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও আড়াগাও গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলালের সমর্থক হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা করেন। পরে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী সমর্থকরা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয় লাভ করেন। এ থেকে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে মোখলছুর রহমান অভয়পাশা মধ্য বাজারে পৌঁছার পর রবিকুল ইসলাম, রহিছ আলামিন, লালন ও রাজু তাদের লোকজন নিয়ে হামলা করেন। এ সময় মোখলেছুর রহমান ও অভয়পাশা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী মোখলেছুর রহমান পরশ বলেন, ৫আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর রবিকুল ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোনা মিয়া অভয়পাশা বাজারে লুটপাট করার চেষ্টা করেন। আমি ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত দুইবারের সাধারণ সম্পাদক এবং দুইবারের সভাপতি। ওই ইউনিয়ন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করেছি। ওই হিসেবে আমি বাজারে লুটপাট এবং ভাঙচুর করতে দেয়নি। এরপর তারা আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে নির্বাচন করেছি। নির্বাচন চলাকালীন সময় থেকে আমাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল তারা। রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় মধ্য বাজারে রবিকুল, রহিছ, আল আমিন ও লালন তাদের লোকজন নিয়ে আমার উপর হামলা করে। এ সময় বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়াকেও তারা মারপিট করে।
অভয়পাশা বাজারের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া বলেন, অভয়পাশা বাজারের ইজারার শিডিউল সোমবার জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইজারার বিষয়ে মোখলেছুর রহমান ও আমরা মিটিং করে রাত ১২টার দিকে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। মধ্য বাজারে রবিকুল তার লোকজন নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এ সময় মোখলেছুর রহমান ও আমি আহত হই। পরে আমার সাথে থাকা ৫৮ হাজার টাকা তারা নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি’র সভাপতি রবিকুল ইসলাম বলেন, রাতে আমি অভয়পাশা বাজারে ছিলাম। হঠাৎ মানুষের ডাক চিৎকার শুনতে পাই। পরে গিয়ে শুনি মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়ার উপর কে বা কারা হামলা করেছে। এখন আমাদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না।
শ্বরমুশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান রিপন ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায় কমিটির সদস্য আয়াতুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে যারা কাজ করেছে তাদেরকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজার ইজারার বিষয় নিয়ে মোখলেছুর রহমান পরশ ও অভয়পাশা বাজারে বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া বাজারে মিটিং শেষ করে বাড়ি যাওয়ার পথে রবিকুল তার লোক জন্য হামলা করে। এটি অত্যন্ত নেক্কা ষরজনক ঘটনা। এ ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাসুম চৌধুরী জানান, শুনেছি অভয়পাশা বাজারে রবিবার রাতে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই ঘটনাটি রাজনৈতিক কোন বিষয় না। এটি তাদের দু’পক্ষের বিষয়।
নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আরএমও মো. মাজহারুল আমীন বলেন, আটপাড়ার মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া নামে দুইজন আহত রোগী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জোবায়দুল আলম জানান, রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজারে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সকালে পুলিশ সেনাবাহিনী সহ আমি অভয়পাশা বাজারে গিয়েছিলাম। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে মারামারি হওয়ার বিষয়টি জানিনা। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।