জাহাঙ্গীর আলম , তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা ভোর সকালে অগ্নিদগ্ধ তারাকান্দা আ’লীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন আবার রাতে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দুর দেয়া আগুনে তারাকান্দায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিতীমত ক্ষুব্ধ ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষীত আ’লীগ নেতা তারাকান্দা উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতার মাঝে চরম বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় তাদের নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এতে তারাকান্দা উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ ও ৪নং গালাগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া লিখেন, ”প্রিয় সংগ্রামী সাথী সহযোদ্ধা। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস আমাদের প্রত সালের ৫ই আগস্ট এই অফিসটা পুড়িয়ে আমাদের কলিজা দগ্ধ করেছিল,
দীর্ঘ ১৮ মাস পর যখন এই দগ্ধ কলিজা কিছুটা সেরে ওঠার পথে, ঠিক সেই সময় যারা অতি উৎসাহী হয়ে প্রতিপক্ষকে সুরসুরি দিয়ে আবার এই অফিসে আগুন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে তাদের প্রত্যেককেই জবাব দিতে হবে, তোমরা কার অনুমতি নিয়ে অফিস উদ্বোধন করলে, সে আওয়ামী লীগের কে? , এই অফিসের কে? ,
জবাব তোমাদেরকে দিতে হবে। ৫ই আগস্ট এর পর আমি দেশে থেকে সকল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করেছি যতটুকু পারি খোঁজখবর নিয়েছি আমার সাথে সকল পর্যায়ের আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ ছিল এখনো আছে ।
আমাদের উপজেলা যুবলীগ এক্টিভ ছিল এখনো আছে। উপজেলা ছাত্রলীগ অ্যাক্টিভ ছিলো এখনো একটিভ আছে। তোমরা কারা আওয়ামী লীগ অফিস উদ্বোধন করার? তোমরা কে ?
দলের এই দুর্দিন দুঃসময়ে আমাদের রাজনীতি হবে সম্মিলিত রাজনীতি সকল কর্মসূচি হবে সকলের অংশগ্রহণে । আমাদের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ সহ আরো যারা আগামী দিনের এমপি প্রার্থী আছেন মেয়র প্রার্থী আছেন,
উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন,আমরা সবাই এক মঞ্চে রাজনীতি করবো। আল্লাহ যাকে পছন্দ করবেন, নেত্রী যাকে পছন্দ করবেন তিনি এমপি হবেন । এর বাইরে যারা পৃথক রাজনীতি করার চেষ্টা করবে তাদেরকে মনে করব আওয়ামী লীগের শত্রু দেশের শত্রু।
আমি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দদেরকে উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি সবাই ঐক্যবদ্ধ প্রস্তুতি গ্রহণ করুন যারাই দ্বিতীয়বার আমাদের এই হৃদপিণ্ডে আগুন দিয়েছে আমরাও ওদের প্রত্যেকের রাজনীতি চিরদিনের জন্য নিশ্বেস করে দিব। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় আমাদের প্রিয় তারাকান্দার মাটিতে কোন রাজাকারের অস্তিত্ব রাখবো না।জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
জয় দেশরত্ন শেখ হাসিন বলে লিখাটি শেষ করেন।
তা দেখে তার প্রতি উত্তরে তারাকান্দা উপজেলা যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন জিয়াউল হক জিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কমেন্ট বক্সে লিখেন, ” আপনার লেখাটা পড়ে উত্তর না দিয়ে পারলাম না। তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ ৫ ই আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত জীবিত আছে কিনা আমার জানা নেই।
তারাকান্দা উপজেলা যুবলীগ ৫ আগস্টের পর থেকে জীবিত আছে কিনা জানা নেই। কিছু সংখ্যা মানুষ ফেসবুকে পোস্ট করা ছাড়া রাজনৈতিক কোন কর্মকান্ডে আওয়ামী লীগ’কে ফিরিয়ে আনার জন্য কোন ভূমিকা রাখেনি।
৫ ই আগস্টের পর থেকে কয়েকজন লোক ছাড়া কেউ কোন আন্দোলন মিছিল করেনি, তারা কিন্তু কেও বড় ধরনের পোস্ট পদবী নিয়ে করেনি। তার মানে কি পদ পদবী ছাড়া আওয়ামী লীগ কেউ করতে পারবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি আপনার কথার অনুযায়ী কয়েকজনকে তারাকান্দা ফুলপুর ইজারা দিয়ে দিছে, অন্য কেউ আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করলে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। জবাব যদি নিতে চান ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি যদি করতে চান তাহলে আসুন কবে কোন দিন অবস্থান করবেন আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য, না নেত্রীর আশায় বইসা রইছেন উনি ব্যবস্থা করে দিবে তারপর আপনারা আসবেন ।
আমি কথা দিলাম আমি আওয়ামী লীগের একজন নগণ্য কর্মী হিসাবে ওই তারিখে শতাধিক লোক নিয়ে আপনাদের পাশে থাকবো। ৫ তারিখের পর থেকে ফুলপুর তারাকান্দার কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রেখেছি এখনো আছে ভবিষ্যতেও থাকবে।
ইনশাআল্লাহ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু লিখে লিখাটা শেষ ক২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন যেতে না যেতেই দেশের বেশ কিছু স্থানে এমন সব দৃশ্য লক্ষ্মণীয় হয়ে উঠে। যা কিছু মানুষের কাছে ইতিবাচক ও কিছু মানুষের মাঝে নেতিবাচক হয়ে উঠছে।