রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের একটি পিলারের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক খুটিতে হঠাৎ আগুন লাগায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতি ও তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে কেউ আহত হননি এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্যার দিকে, যখন মসজিদে স্বাভাবিকভাবে মুসল্লিদের যাতায়াত চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে পিলারের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুনের শিখা দেখা দিলে আশপাশের মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। মসজিদের নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও শিখা বাড়তে থাকায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পিলারের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক খুটিতে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগুন মসজিদের মূল কাঠামো ছড়ানোর আগেই নেভানো সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং পানি ছিটিয়ে আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলেন। সতর্কতার অংশ হিসেবে কিছু সময়ের জন্য পুরো এলাকা কর্ডন করে বৈদ্যুতিক লাইনগুলো পরীক্ষা করা হয়।
মসজিদ প্রশাসন জানায়, এ ঘটনার পর বৈদ্যুতিক লাইন ও সরঞ্জামগুলো পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এমন ব্যস্ত এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত।
যদিও ঘটনাটি সীমিত পরিসরে ছিল, তবে এটি জনসমাগমপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব আরেকবার সামনে এনেছে। সৌভাগ্যবশত, প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া একটি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে—এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।