২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সমাবেশের সময় ঘটানো গণহত্যার ঘটনায় ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকার কারণে বাংলাদেশ জাতীয়ত লাভ ইউনিয়ন (বিএনপি)কে সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
তিনি বলেন, “ইসলামি যেসব দল রয়েছে, তাদের মধ্যে সুন্নিরা লীগের সঙ্গে ছিল, কিন্তু হেফাজত বিএনপির সঙ্গে ছিল। হেফাজতের শাপলা চত্বরের সমাবেশে যখন লাশগুলো একের পর এক পড়ছিল, তখন কিন্তু বিএনপির কাউকে উঁকি মারতেও দেখা যায়নি। শাপলায় আমার আলেম ভাইয়েরা শহীদ হন আর তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গুলশানে বসে ব্যাংকের ভাগ-বাটোয়ারায় ব্যস্ত ছিলেন।”
রোববার (৯ নভেম্বর) রাতে সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটরিয়ামে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পথরেখা’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থিত ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স অ্যালায়েন্স-এর (এনএলএ) আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, “মদিনা ও মওদুদীর ইসলাম নিয়ে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। নতুন করে তারা বলছেন—জামায়াতের ইসলাম মওদুদীর ইসলাম, তাদের ইসলাম মদিনার ইসলাম। মদিনার ইসলামে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কোথা থেকে এসেছে? ফ্যাসিজম কোথায় পাইলেন, হাওয়া ভবন কোথা থেকে আসলো?”
তিনি কওমি আলেমদের উদ্দেশে বলেন, “ইসলামের নামে হয়তো কতগুলো ব্যানার খুলে ইসলামকে বাংলাদেশে অবমাননা করা হয়। আলেমদের এসব বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, “নতুন করে সমীকরণ সাজাচ্ছে—যেহেতু জামায়াত ওই দিকে ইসলামিক ব্লক গড়ছে, হেফাজতের আলেমদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে ট্যাবলেট খাওয়ানো হচ্ছে যেন ইসলামের নাম দিয়ে নতুন করে ধানের শীষে ভোট দেয়।”
পাটোয়ারী বলেন, “এই বাংলাদেশে আমরা রক্ত দিতে এসেছি। আমরা দুর্নীতির টাকা দিয়ে বাংলাদেশে নির্বাচন করতে আর যাব না। আমরা জনগণের মধ্য থেকে এসেছি, জনগণের মধ্যে আবার যাব। আপনাদের প্রত্যেকটি চাঁদাবাজি যদি এক করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের আগামী নতুন একটি সুন্দর রাষ্ট্র বিনির্মাণ শুরু হতে পারে।”
আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন, আইনজীবী জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসিন, আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার প্রমুখ।