রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে তার ছাত্রী ও প্রেমিকা বারজিস সাবনাম বর্ষার নাম। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন বর্ষার প্রথম প্রেমিক মাহীর রহমান।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার সময় ঘাতক মাহীরের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত জোবায়েদ রক্তাক্ত অবস্থায় সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়ে প্রাণভিক্ষা চাইলে বর্ষা ঠান্ডা মাথায় বলে ওঠে,
“তুমি না সরলে আমি মাহীরের হতে পারব না।”
কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পুরান ঢাকার বংশাল থানার নুরবক্স লেনের একটি বাসায় টিউশন করতে যেতেন। সেখানে তার ছাত্রী বর্ষার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু একই সময়ে বর্ষা মাহীর রহমান নামের এক তরুণের সঙ্গেও সম্পর্কে ছিলেন। দুই সম্পর্কের টানাপোড়েনে পড়ে বর্ষা নিজেই হত্যার পরিকল্পনা সাজান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় বর্ষা, তার প্রথম প্রেমিক মাহীর রহমান এবং মাহীরের বন্ধু ফারদিন আহমেদ আইলানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহীর স্বীকার করেছে, প্রথমে শুধু জোবায়েদকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু বর্ষার অনুরোধে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
২৬ সেপ্টেম্বর বর্ষা ও মাহীর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। পরে ১৯ অক্টোবর মাহীর ও আইলান ছুরি নিয়ে বর্ষার বাসায় অবস্থান নেয়। বর্ষা নিজেই শিক্ষক ও প্রেমিক জোবায়েদকে বাসায় আসতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে বর্ষা থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মাহীর ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান জোবায়েদ।
অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম জানান, মাহীর ও বর্ষা একই ভবনে ভাড়া থাকতেন এবং দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। অন্যদিকে জোবায়েদ প্রায় এক বছর ধরে বর্ষাকে পড়াতেন। বর্ষা যখন যার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন, তাকেই প্রাধান্য দিতেন। এই অবস্থায় মাহীরকে তিনি বলেন, “জোবায়েদকে না সরালে আমি তোমার হতে পারব না।” সেই কথাই পরিণত হয় হত্যার নৃশংস বাস্তবতায়।
তিনি আরও জানান, মাহীরকে গ্রেফতারে পুলিশের কৌশল ছিল আলাদা। পুলিশের চাপের মুখে মাহীরের মা তাকে থানায় হস্তান্তর করেন, যদিও এটি স্বেচ্ছায় নয়, বরং পুলিশের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা পুরোপুরি বর্ষার। বরগুনার মিন্নি ঘটনার সঙ্গে এর মিল আছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, এটি নিছক ত্রিভুজ প্রেমের পরিণতি।”