জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইনকে বিদায় জানাতে আজ বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা। পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল এক গভীর শোকের নিস্তব্ধতা। সহপাঠীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাতাস, চোখ টলমল করে ওঠে উপস্থিত সবার।
জুবায়েদের বাবা মোবারক হোসেন অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার ছেলের নাম ছিল জুবায়েদ হোসেন, আমি ডাকতাম জুবু। আমি যখন ঢাকায় আসতাম, ও কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটত। আজ আমার জুবু নেই। জুবুর মাকে আমি কী বলব?” তার এই কান্না ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সবার হৃদয়। তিনি ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন।
জুবায়েদ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এক বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলায় এক ছাত্রীকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ওই ছাত্রীটির বাসার তিনতলায় খুন হন জুবায়েদ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মেয়েটির প্রেমিক মাহির রহমান ঈর্ষাবশত তাকে হত্যা করে। মাহির রাজধানীর বোরহানউদ্দিন কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাহিরের এক বন্ধুকেও খোঁজা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে জবি ক্যাম্পাস। জানাজা শেষে ছাত্রদল, শিবির এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা জুবায়েদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি জানায় এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানায়।