শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডকে পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে দেখছে ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মূল্যায়ন,
এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং দেশের শিল্পকারখানা, আমদানি রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি আঘাত হেনে জাতীয় অর্থনীতিকে অচল করার নীলনকশার অংশও হতে পারে।
রোববার সংগঠনের সভাপতি মিজানুর রহমান প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কা তুলে ধরা হয় এবং ঘটনাটির গভীরতর অনুসন্ধান জরুরি বলে জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে, যাতে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা ও অগ্নি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরুরি ভিত্তিতে আমদানি পণ্যের নির্মাণাধীন গুদাম অস্থায়ীভাবে চালুর প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমদানি পণ্যের গুদামে মজুত প্রায় সব পণ্যই ভস্মীভূত হয়েছে। বাইরে থেকে অক্ষত দেখালেও বহু পণ্য তাপ ও ধোঁয়ার প্রভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস সময়মতো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্রুত নেভানোর কাজে সক্ষম হয়নি বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দেয়।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মূল্যায়ন, এ ঘটনা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত করার পরিকল্পিত অপচেষ্টার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখা অপরিহার্য। সংগঠনটির মতে, দ্রুত তদন্ত শুরু করে নিরাপত্তা দুর্বলতা চিহ্নিত না করলে শিল্প উৎপাদন, সরবরাহ শৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বাস্তবসম্মত সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণাই এখন প্রাধান্য পাওয়া উচিত।