শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

বানিজ্য

থামছে না কেন গার্মেন্টস উত্তেজনা?

সরকারের নানা উদ্যোগের পরও পোশাক খাতের শ্রম অসন্তোষ ও অস্থিরতা কাটছে না। দফায় দফায় মালিক, শ্রমিক ও সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের ১৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার পরও শ্রম অসন্তোষ পুরোপুরি কাটানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনায় ন্যায্য মূল্যে শ্রমিকদের নিত্যপ্রয়োজনীর পণ্য দেওয়া হচ্ছে। তার পরও পোশাক শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা […]

নিউজ ডেস্ক

২০ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৩৮

সরকারের নানা উদ্যোগের পরও পোশাক খাতের শ্রম অসন্তোষ ও অস্থিরতা কাটছে না। দফায় দফায় মালিক, শ্রমিক ও সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের ১৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার পরও শ্রম অসন্তোষ পুরোপুরি কাটানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনায় ন্যায্য মূল্যে শ্রমিকদের নিত্যপ্রয়োজনীর পণ্য দেওয়া হচ্ছে। তার পরও পোশাক শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে এই অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। এর পেছনে আওয়ামী লীগের উসকানি. ঝুট সন্ত্রাস, ভারতের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা এবং মালিকদের পেটোয়া বাহিনীর যোগসূত্র থাকতে পারে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ১৫ থেকে ২০ জন পোশাক শিল্পের মালিককে কঠোর নজরদারিতে আনা গেলে এই শ্রম অসন্তোষ থামানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, শ্রম অসন্তোষে পেছন থেকে কমবেশি ৫০ জন মালিক ইন্ধন দিচ্ছেন।শ্রমিক নেতারা জানান, ৯৫ শতাংশ কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ঘটে বকেয়া বেতনের জন্য।

তবে এখন প্রায় পাঁচ হাজার কারখানার মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে বকেয়া রয়েছে। এমন বকেয়া আগেও ছিল। এবার রাজনৈতিক পটপরির্বতনের সুযোগ নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কিছু অতি উৎসাহী শ্রমিক উদ্ভট সব দাবি করে প্রথমে কারখানার চাকা বন্ধ করে।
পরে তাদের রাস্তায় নামিয়ে দেয়।

এদিকে বিজিএমইএর তথ্য অনুসারে, গতকালও মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন দুই কারখানার শ্রমিকরা। গাজীপুর মহানগরীর জিরানী ও চক্রবর্তী এলাকার দুটি কারখানার শ্রমিকরা এক মাসের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

শ্রমিকরা জানান, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পোশাক ও সিরামিক কারখানায় ৪১ হাজার কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে আরএমজি কারখানার শ্রমিকরা সপ্তাহখানেক ধরেই সড়ক অবরোধ করে গত মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানাচ্ছেন।

অন্যদিকে জিরানী ডরিন ফ্যাক্টরির ১৩ জন স্টাফ ছাঁটাই ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল সকাল থেকে একই মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন ওই কারখানার শ্রমিকরা।

তবে মূলস্ফীতি আর মজুরি বকেয়ার ফলে শ্রমিকদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। মজুরি না পেলে প্রথমে তারা বাড়িওয়ালার রোষানলে পড়েন। পরে মুদি দোকানের মাসিক বকেয়া নিয়ে অসম্মানের শিকার হতে হয়। এর ফলে বাধ্য হয়ে শ্রমিকদের মাঠে নামতে হয়।

চলমান শ্রমিক অসন্তোষে বেক্সিমকো গ্রুপের কারখানাসহ অন্য কয়েকটি কারখানার অসন্তোষ পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্ট, রাজনৈতিক। বেশির ভাগ কারখানার মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এই অসন্তোষ।

জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়েকটি কারখানার বকেয়া থাকতে পারে। এটাকে পুঁজি করে আগুনে ঘি ঢেলে দিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী। এমন ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি হবে না। এদের ১৫ থেকে ২০ জনকে কঠোর নজরদারিতে আনা গেলে এই সংকট শিগগিরই থেমে যাবে।’

পোশাক খাত নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে জানান, ক্ষমতার পালাবদলের পর পোশাক কারখানায় কাজ কমছে। ক্রেতারা এখন কার্যাদেশ কমিয়ে দিয়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছে প্রতিযোগী দেশ। তাদের রপ্তানি আয় বাড়ছে। ভারত সরকার নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে পোশাক খাতকে উৎসাহিত করছে।

এদিকে বিজিএমইএর সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে আন্তরিক নয় বিজিএমইএ সহায়ক কমিটি। সরকার সম্প্রতি বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করে। প্রশাসককে সহায়তার জন্য সহায়ক কমিটিও করা হয়। কিন্তু সেই কমিটিও কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলে অভিযোগ রয়েছে বিজিএমইএ সদস্যদের।

নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সরকার পতনের পর তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না।

এর সঙ্গে বকেয়া বেতন, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে কিছু কারখানা মালিকের অনুপস্থিতিও শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। এই পরিস্থিতিতে ১০-১৫ শতাংশ ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে। কয়েকটি দেশ এই সুযোগ ব্যবহার করে ক্রেতাগোষ্ঠী টানার চেষ্টা করছে।’

একসময়ের দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপ বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে। এই সংকটের কারণে শাইনপুকুর সিরামিকস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বন্ধ কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪টিতে।

গত আগস্ট থেকে বেক্সিমকোর কারখানাগুলো কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে না পারায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। গাজীপুরের চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে শ্রমিকদের টানা পাঁচ দিনের অবরোধের পর এই সংকট আরো প্রকট হয়ে ওঠে।

বানিজ্য

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম নিয়ে চট্টগ্রামে ভিড়ল ‘এমভি নর্স স্ট্রাইড’ জাহাজ

ক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথমবারের মতো সরকার টু সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী সরকার মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টন গম আমদানি করবে।

নিউজ ডেস্ক

২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০১:২০

ক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথমবারের মতো সরকার টু সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী সরকার মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টন গম আমদানি করবে।

এই প্রকল্পের প্রথম চালান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ‘এমভি নর্স স্ট্রাইড’ নামের জাহাজটি শনিবার (২৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। জাহাজটিতে রয়েছে ৫৬ হাজার ৯৫৯ টন গম।

সূত্র জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সময় বাংলাদেশের ওপরও ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেছিল। সেই শুল্কের প্রভাব কমাতে ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার শুল্ক প্রত্যাহার ও আমদানি বৃদ্ধির পথে অগ্রসর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ।

ঢাকায় ওই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সময় খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টিমান এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে। আগে ভারত, রাশিয়া, বেলারুসসহ অন্যান্য দেশ থেকেও গম আমদানি করা হতো। দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক শুল্ক হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী গম আমদানি কার্যক্রম এখন চলমান। জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষা শেষে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এই চালানের ৫৬ হাজার ৯৫৯ টনের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৭০ টন চট্টগ্রাম বন্দরে এবং বাকি ২২ হাজার ৭৮৯ টন মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।