পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কৌশলগত সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে অঞ্চলে সামরিক মোতায়েন জোরদার করছে, অন্যদিকে চীন ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আল-আলমের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, লেবাননের অনলাইন সংবাদপত্র “আল-আখবার” এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এই সামরিক তৎপরতা কূটনীতির ব্যর্থতা নয়; বরং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে “সামরিক চাপ” প্রয়োগের কৌশল। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিভাষায় এ ধরনের কৌশলকে “কূটনীতির সামরিকীকরণ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে বিমানবাহী রণতরী “ইউএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড” কে আরব সাগরে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে এটি ইতোমধ্যে অবস্থানরত “আব্রাহাম লিংকন” রণতরীর সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
“রয়টার্স”–এর বরাত দিয়ে আল-আখবার আরও জানায়, মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ ইরানের বিভিন্ন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযানের বিকল্পসমূহ নিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। একই ধারাবাহিকতায় “ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট”–এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় ১২টি উন্নত F-35A যুদ্ধবিমান পাঠানো হচ্ছে। এই যুদ্ধবিমানগুলোকে KC-135 রিফুয়েলিং বিমানের সহায়তায় আটলান্টিক পেরিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় স্থানান্তর করা হবে।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীন স্যাটেলাইট তথ্য ও যোগাযোগ সহায়তা দিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায়নি, তবুও সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সহযোগিতা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?