মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আমি কিছু করিনি, করেছে আইন মন্ত্রণালয় : আসিফ নজরুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা আগামীকাল শপথ গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ। তাই দায়িত্ব ছাড়ার আগে নিজের কাজের হিসাব দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ ছাড়াও গত দেড় বছরে বিভিন্ন সংস্কার ও কার্যক্রম আইন মন্ত্রণালয়ের টিমওয়ার্কের ফল, ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার […]

আমি কিছু করিনি, করেছে আইন মন্ত্রণালয় : আসিফ নজরুল

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:৫৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা আগামীকাল শপথ গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ। তাই দায়িত্ব ছাড়ার আগে নিজের কাজের হিসাব দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ ছাড়াও গত দেড় বছরে বিভিন্ন সংস্কার ও কার্যক্রম আইন মন্ত্রণালয়ের টিমওয়ার্কের ফল, ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার জবাবে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দেন তিনি। তার ভাষ্য, ভাই, আমি কিছু করিনি। করেছে আমাদের আইন মন্ত্রনালয়। তবে এর প্রতিটি কাজে আমি অংশীদার ছিলাম।

তিনি লেখেন, আমাদের এই টিমওয়ার্কে কোন ফাঁকি ছিল না। আমি জানি তারপরও সমালোচনা করতে কারো কারো ভালো লাগবে। সেটা করেন, সমস্যা নাই। তবে আমার একান্ত অনুরোধ তার আগে, কী কী কাজ করা হয়েছে তা একটু জেনে নিন। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

পোস্টে আসিফ নজরুলের দেওয়া কাজের হিসাবগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো:

কি কাজ হয়েছে?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এগুলো হলো:

১) ২২ টি আইনি সংস্কার

২) ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন;

৩) ২৪, ২৭৬টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার;

৪) গণহত্যার বিচার ব্যবস্থাপনা

৫ ) প্রায় তিনগুণ পরিমাণে দৈনন্দিন কার্যক্রম

১) আইনি সংস্কার

ক) আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ: এই আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। এতে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা, সাক্ষীর সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, অন্তবর্তীকালীন আপীল, এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে।

খ) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ: এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বতন্ত্র জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে মেধা, সুযোগের সমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গ) সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ : বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিচার বিভাগের নিজস্ব কর্তৃত্বে ন্যস্তকরণের বিধান করা হয়েছে।

ঘ) বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ: এর মাধ্যমে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে দালিলিক সাক্ষ্যভিত্তিক বিচার, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, মধ্যস্থতা, ভার্চুয়াল শুনানি এবং অনলাইন মামলা ব্যবস্থাপনার সুবিধা রাখা হয়েছে।

ঙ) মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে কমিশনের তদন্ত, ক্ষতিপূরণ আদায় ও নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং OPCAT বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো গণবিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সুযোগ্য কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

চ) গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত ক্ষমতা প্রদান, ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সম্পত্তি ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।

ছ) জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা প্রদান এবং একই সঙ্গে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণীত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন মামলা দায়ের নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে।

জ) দেওয়ানি কার্যবিধিতে সংশোধন: এই সংশোধন করে দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে। মৌখিক সাক্ষ্যগ্রহণের পরিবর্তে এফিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ, অনলাইনে সমনজারি এবং মূল মামলার অধীনেই রায় কার্যকর করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ঝ) ফৌজদারি আইনে সংস্কার: ফৌজদারি আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে। সেই সাথে অভিযুক্তের অধিকারের নিশ্চয়তা, জেন্ডার সংবেদনশীল শব্দ পরিহার, তদন্ত প্রক্রিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনা, মিথ্যা মামলার হয়রানী রোধ করাসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে।

ঞ) মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান সংযোজন: আইন সংশোধন করে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের মামলার ক্ষেত্রে মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান করা হয়েছে। মধ্যস্থতা-চুক্তি আদালতের ডিক্রির সমতুল্য মর্যাদা পাচ্ছে। প্রতি জেলায় একজন বিচারকের স্থলে ৩ জন বিচারককে লিগ্যাল এইড অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (Pre-case Mediation) প্রক্রিয়া চালু করে ২০টি জেলায় এডিআর (ADR) ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের ফলে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে সফল নিষ্পত্তির গড় হার ৩৩৯.৮৬% বৃদ্ধি পেয়েছে ও যৌতুকের মামলা ৭৯.৭৪% হ্রাস পেয়েছে। বন্টনের মামলা, অগ্রক্রয় সহ বিভিন্ন বিরোধের একদিনেই নিষ্পত্তি হচ্ছে।

ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন: এই সংশোধনীর মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সম্পন্নে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তার জবাবদিহির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাক্ষীদের সুরক্ষা, শিশু ধর্ষণ মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং পুরুষ শিশু নিপীড়নকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন যুগোপযোগী বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ঠ) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংস্কার: প্রবাসীদের জন্য ডাক ব্যালট প্রবর্তন, নির্বাচনি অপরাধ বিচারে বিচারকদের সমন্বয়ে অনুসন্ধান ও বিচার কমিটি গঠন এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিচারিক ক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে।

ড) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে পূর্বের সাইবার নিরাপত্তা আইনের নিপীড়নমূলক ধারাগুলো এবং এসবের অধীনে দায়ের হওয়া মামলাগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

ঢ) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় সংশোধনী: পূর্বে বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশী বৈধ পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এখন বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট না থাকলেও, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্যক্তিগণ তাদের পাসপোর্টে ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ স্টিকার থাকলে বা জন্মসনদ বা জাতীয় পরিচয় পত্র থাকলেই বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করতে পারছেন। এতে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সম্পত্তি হস্তান্তরসহ নানা আইনি কাজ অনেক বেশি সহজ হয়েছে।

ণ) বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন: বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন করে জেন্ডার বৈষম্যমূলক বিধান বাতিল করা হয়েছে। কাবিননামা ফরম সংশোধন করে তা সময় উপযোগী ও অধিকতর স্পষ্ট করা হয়েছে। অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার কমিশন অধ্যাদেশ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীসহ বিভিন্ন আইনে অধ্যাদেশ প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে সহযোগিতা প্রদান করেছে।

২) প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন

ক) জুডিসিয়াল সার্ভিসের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৩টি পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের পদসৃজনের ক্ষমতা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের উপর ন্যস্ত করে ‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫’ এবং সার্ভিসের সদস্যদের সরকারের আইন ও বিচার বিভাগে পদায়নের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

পূর্বে পদ সৃজনের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল বিধায় বিচারকের পদ সৃজনে বিলম্ব হতো এবং মামলা জট বাড়তো। এখন সুপ্রীম কোর্টের অধীন একটি বিশেষ কমিটিকে বিচারিক পদ সৃজনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সঠিকভাবে পদায়ন ও পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্য পদায়ন ও পদোন্নতি বিধিমালা প্রনয়ন করা হয়েছে।

খ) তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন: বিচারপ্রার্থী জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিতকরণে দেশের সকল আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মামলার সর্বশেষ অবস্থা, শুনানির তারিখ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি কমেছে।

গ) কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ: একটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে দক্ষ কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ কার্যক্রম চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিধিসমূহ সংশোধন করা হয়েছে এবং সারাদেশের আদালতের মোট ২৭৩৩টি শূন্যপদে নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

ঘ) দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম: অধস্তন আদালতের বিচারকদের সম্পত্তির হিসাব গ্রহণ এবং সংগৃহীত হিসাবের নথিসমূহ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাবরেজিস্ট্রারদের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী তৈরি করা হয়েছে।

ঙ) প্রসিকিউশন মনিটরিং সেল: জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার উপর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসিকিউশন কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

চ) বিচার কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন: বিচার কার্যক্রম দ্রুততর করার লক্ষ্যে ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য সরকারী চাকরিজীবীদের অনলাইনে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পত্রের আলোকে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট Practice Directions জারি করেছে। এছাড়া ৮০% আদালতে ই-কজলিস্ট নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে, একে দ্রুততম সময়ে শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ছ) ই-ফ্যামিলি কোর্ট: আদালত ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুইটি পারিবারিক আদালতে ই-ফ্যামিলি কোর্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইনে মামলা দায়ের, হাজিরা ও শুনানী, কোর্ট ফি প্রদান এবং রেকর্ড সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। এই ডিজিটাল কাঠামো পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম আধুনিক ও সহজতর করেছে।

জ) অনলাইন বেইলবন্ড: ৯টি জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে যার ফলে জামিন প্রাপ্তির পর পূর্বে ১৪টি ধাপকে কমিয়ে এক ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ঝ) আইন মন্ত্রণালয়ে ডিজিটালাইজেশন: আইন ও বিচার বিভাগে ডি-নথির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে । তাছাড়া, এ মন্ত্রণালয়ের Attestation সেবাকে শতভাগ অনলাইন প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করা হয়েছে।

ঞ) জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা: এই সময়কালে আইনগত সহায়তা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার সাধিত হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়াও, জরুরি আইনগত সহায়তা, প্রবাসী নাগরিকদের সহায়তা প্রদান এবং পেশাদার মধ্যস্থতাকারী সৃষ্টির লক্ষে সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনামূল্যে আইনী পরামর্শের জন্য সহজে মনে রাখার মতো নতুন ফোন নম্বর (১৬৬৯৯) এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ট) দেওয়ানি আদালতের পরিচিতি: দেওয়ানি বা সিভিল আদালত হওয়া সত্ত্বেও আদালতের নামের সাথে ‘সিভিল’ শব্দটির পরিবর্তে ‘সহকারী’ শব্দটি থাকায় ‘সহকারী জজ আদালত’ ও ‘সিনিয়র সহকারী জজ আদালত’-এর স্বাধীনতা ও এখতিয়ার বিষয়ে বিচারপ্রার্থী ও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরী হতো। বর্তমানে আইন সংশোধন করে আদালতের নাম পরিবর্তন করে ‘সিভিল জজ আদালত’ ও ‘সিনিয়র সিভিল জজ আদালত’ করা হয়েছে।

ঠ) দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণ এবং রেকর্ড সংখ্যক নতুন আদালত সৃজন:
এই সময়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথক করা হয়েছে, যার ফলে এক বিচারককে একাধিক প্রকৃতির মামলার বিচার করতে হবেনা। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমবে। এসময়ে রেকর্ডসংখ্যক ১৬০৫টি নতুন আদালত সৃষ্টি হয়েছে।

ণ) নিবন্ধন অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন বিভাগের সংস্কার: রেজিস্ট্রেশন সেবার মানোন্নয়ন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, এবং জনবান্ধব সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নিবন্ধন অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরুর দ্বার প্রান্তে। এ পদ্ধতি চালু হলে দাতা/বিক্রেতার বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাইপূর্বক রেকর্ডপত্র অনলাইনে ডিজিটাল বালামে সংরক্ষিত হবে। সূচিবহি ও দলিল অনলাইনে থাকবে। ভূমি অফিস থেকে এলটি নোটিশ এবং রেজিস্ট্রিকৃত দলিল অনলাইনে দেখা যাবে। ফলে জাল দলিলে নামজারি বন্ধ হবে।

৩। হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার কার্যক্রম

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা: এবিষয়ে জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটি এবং আইন ও বিচার বিভাগের পর্যালোচনার পর এধরনের ২৩,৮৬৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। সূচাড়ুভাবে সকল ভূক্তভোগীকে এই সুযোগ দেয়ার লক্ষে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

এরূপ হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সাইবার আইনের অধীনে ৪১০টি স্পিচ অফেন্স সংক্রান্ত মামলা, এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় সকল মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহারে সীমাহীন ভোগান্তি ও হয়রানী থেকে মুক্তি পেয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষ।

৪) গনহত্যার বিচার সহায়তা

জুলাই গনঅভূত্থানে সংগঠিত গনহত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের নিয়োগ, তাদের সকল লজিষ্টিক সহায়তা প্রদান, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন ও প্রসিকিউশন কাজের তদরকীর দায়িত্ব পালন করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এই আদালতে চারটি মামলার রায় হয়েছে, আরো কমপক্ষে ছয়টি মামালার বিচার চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, গুম সহ বহু মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

৫) দৈনন্দিন কার্যক্রম

এ সরকারের কার্যকালে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে লক্ষনীয় গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দেড় বছরে মন্ত্রীপর্যায়ে নিষ্পত্তিকৃত নথির সংখ্যা ২২৮১টি, বিগত সরকারের একই সময়ে ১২৩৫ টি নথি নিষ্পত্তি হয়েছিল। গত দেড় বছরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ অন্যান্য দপ্তরে ৫৭৮টি বিষয়ে আইনি মতামত প্রদান করা হয়েছে (গত সরকারের আমলে ২১০টি)।

আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে রেকর্ড ১৫টি অংশীজন মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনগুলো, গুম সংক্রান্ত অপরাধ তদন্ত কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

দেশে প্রথমবারের মতো বিধিমালা ও প্রবিধানগুলোকে কোডিফাই করার কাজ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রণীত ১২৭টি অধ্যাদেশ ও একটি আদেশ নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফ্যসিষ্ট আমলে নিয়োগকৃত সকল আইন কর্মকর্তা পালিয়ে যাওয়ার কারণে গত দেড় বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যাক আইন কর্মকর্তাকে (প্রায় সাড়ে পাচ হাজার) নিয়োগ করতে হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগে ৪৮ জন বিচারপতি নিয়োগে সাচিবিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

(প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কি কাজ হয়েছে তার হিসেবও আপনাদের দেয়া হবে)

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো বড় রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবশালী আইনজীবীরা : আইন উপদেষ্টা

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। আইন উপদেষ্টা ড. […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ‘জামিন বিতর্ক’ শীর্ষক ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেওয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারও আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।

প্রথমেই বলে রাখি, হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।

হাইকোর্টের প্রদত্ত জামিনে বিচারিক বিবেচনা কতটা থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। যেমন : হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে কীভাবে চার ঘণ্টায় ৮০০ মামলায় জামিন হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)। এজন্য এক শ্রেণীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল (২৫ অক্টোবর ২০২৫)।

২. জামিন পাওয়ার সুযোগ আমাদের আইনে রয়েছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে অপরাধীর সংযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট, যে অপরাধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং যে ব্যক্তি জামিন পেলে পুনরায় অপরাধ করতে পারে বা অন্য কারও জীবন বিপন্ন করতে পারে, তাকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় উনার কাছে উচ্চ আদালতে অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম।

কিছু জামিন নিম্ন আদালত থেকেও হয়েছে গত ১৬ মাসে। আমরা সেসব মামলার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলায় আসামি কীভাবে অপরাধটিতে জড়িত, পুলিশ তার কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে দেয়নি, এমনকি আসামির দলীয় পরিচয় পর্যন্তও মামলার কোনো কাগজে উল্লেখ করেনি। এরপরও আমি যথাযথ বিচারিক বিবেচনা না করে যেনতেনভাবে জামিন না প্রদান করার কথা বলেছি (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)। কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. জামিন বাণিজ্যে যারা লিপ্ত আছেন, তাদেরকে বলছি—এবার থামুন। আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না। এক গণহত্যাকারী পাশের দেশে বসে আমাদের জুলাই বীরদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিয়ে সেই গণহত্যাকারীর অনুসারীদের এই সুযোগ করে দেবেন না। না হলে, পরকালেও এর দায় আপনাদের নিতে হবে।