ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো ‘একটি ইস্যুতে’ আটকে থাকবে না। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দ্বিপক্ষীয় এই সম্পর্কের অগ্রযাত্রায় বাধা হবে না। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাজধানী ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাকে বিচারের মুখোমুখি করা এখন জনদাবি।
ভারতের উচিত তাকে বাংলাদেশের (আমাদের) কাছে হস্তান্তর করা। তবে তাকে ফেরত না দিলেও বৃহত্তর সম্পর্ক-বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা-এগিয়ে নিতে তা বাধা হবে না।’ খবর দ্য হিন্দুর।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রাক্কালে তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেয়া হবে এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি।
ফখরুল বলেন, হাসিনা ও তার সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যে আইনি প্রক্রিয়া চলছে তা অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জটিল হলেও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বন্ধ থাকা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মতপার্থক্য আছে, তবু তারা কাজ করছে।’
গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন, ফারাক্কা ইস্যু ও সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে।’
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির উল্লেখ করে তিনি জানান, বাণিজ্য, প্রযুক্তি শিক্ষা, সক্ষমতা বাড়ানো ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে দুই দেশের সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে।