মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জে ১৪ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক শাকিল হাদারী হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরমসুরা গ্রামের রাজন শেখ (২৫), ইমরান সরকার (১৯), শরীফ সুলতান আফসু (২৫) এবং দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের মো. ইউসুফ গাজী (৬০)। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শরীফ সুলতান আফসু।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, শরীফ জুয়া খেলে বিপুল ঋণে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি জুয়া খেলায় হেরে ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধার নেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে অপমানিত বোধ করে তিনি বন্ধুদের নিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বপরিচিত কিশোর চালক শাকিলকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে অটোরিকশা ভাড়া নেয় তারা। পৌরসভার গুচ্ছগ্রাম এলাকায় সময় কাটানোর পর অন্ধকারে তার গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটি যন্ত্রাংশ খুলে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় এবং নিহতের মোবাইল ফোন ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
পুলিশ জানায়, রোববার রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে প্রথমে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও দুজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারদের তথ্য অনুযায়ী চোরাইকৃত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন শাকিল (১৪)। নিখোঁজের ২০ দিন পর ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চরকিশোরগঞ্জের নদীর ধারের একটি চরে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান