বিদায়ের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় রেখে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি দাবি করেন,
বর্তমানে দেশে ছয় মাসের খাদ্য আমদানি ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা রয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
রোববার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। শফিকুল আলম বলেন,
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলার। সে সময় ব্যাংকিং খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল এবং কয়েকটি ব্যাংক দেউলিয়া অবস্থায় ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত নীতিগত পদক্ষেপ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ফলে রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বিদায়ের সময় যে পরিমাণ রিজার্ভ রেখে যাওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে অন্তত ছয় মাসের খাদ্য আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
প্রেস সচিব আরও বলেন,
সরকারের লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল কাঠামোয় ফিরিয়ে আনা, যাতে নতুন প্রশাসনের কাছে একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক পরিবেশ হস্তান্তর করা যায়।
মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শফিকুল আলম দাবি করেন, গত ১৮ মাসে কোনো গুমের ঘটনা ঘটেনি। একই সময়ে সরকারকে ‘ফ্যাসিস্টদের কার্যক্রম’ মোকাবিলা করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংস্কার কার্যক্রম চালানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং খাত সচল করা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ভিত্তি তৈরি করবে।