টেলিকম খাতে নিজের সময়কালে দুর্নীতির কোনো সুযোগ রাখেননি বলে জোর দাবি তুলেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন এবং লাইসেন্স ইস্যুকে দুর্নীতির প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘টেলিকমের দুর্নীতির প্রধানতম উৎস লাইসেন্স দেওয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো লাইসেন্স দিইনি। ফলে দুর্নীতি করার কোনো স্কোপই আমি রাখিনি।’
তিনি আরও জানান, লাইসেন্স না দেওয়ার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেকেই তার ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। একই পোস্টে তিনি কড়া ভাষায় সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, মুখ খুললে অনেক তথাকথিত ভদ্রলোকের প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হয়ে যাবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে তার কাজ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা করলে দেশের উপকার হবে।
পোস্টে তিনি আইসিটি ও টেলিকম খাতে তার সময়ে প্রণীত ও গৃহীত বিভিন্ন অধ্যাদেশ, নীতিমালা ও সংস্কারের তালিকাও প্রকাশ করেন। আইসিটি খাতে উল্লেখিত আইন ও নীতির মধ্যে রয়েছে—সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ ও সংশোধনী ২০২৬, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫, ন্যাশনাল সোর্স কোড পলিসি ২০২৬, ন্যাশনাল এআই পলিসি ২০২৬ এবং ন্যাশনাল ক্লাউড পলিসি ২০২৬।
টেলিকম খাতে তার আমলে গৃহীত পদক্ষেপের তালিকায় রয়েছে—টেলিকম লাইসেন্স ও নেটওয়ার্কিং পলিসি, টেলিযোগাযোগ সংশোধনী অধ্যাদেশ, ন্যাশনাল সার্ভেইল্যান্স প্রসেস প্রস্তাবনা, টেলিকম নেটওয়ার্ক লাইসেন্সের নতুন গাইডলাইন, রোলআউট অবলিগেশন ও কেপিআই বেঞ্চমার্কিং।
ডাক বিভাগে সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি অনুযায়ী, ডাকসেবা অধ্যাদেশ ২০২৬, নতুন ঠিকানা ব্যবস্থাপনা ও ম্যাপিং, জলবায়ু অভিযোজন, ডিজিটাল পার্সেল ও পোস্টাল ট্র্যাকিং এবং ই-কমার্স রূপান্তরের লক্ষ্যে সেন্ট্রাল লজিস্টিকস ট্র্যাকিং কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের সময়কার টেলিকম আইন, নীতি ও গাইডলাইন পরিবর্তন করে নতুন পারফরম্যান্স বেঞ্চমার্কিং প্রবর্তন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিকে তার কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত; না হলে ভবিষ্যতে যোগ্য কেউ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হবে না।
ফয়েজ আহমদ আরও দাবি করেন, দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি তার উত্তরসূরির জন্য ‘নোট টু সাকসেসর’ রেখে গেছেন, যেখানে গত ১১ মাসে কী করেছেন এবং কেন করেছেন তা ব্যাখ্যা করা আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মৌলিক কাঠামোগত ভিত্তি ইতিমধ্যে গড়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে পরিবর্তন আনতে হলে সেটির ওপর দাঁড়িয়েই করতে হবে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে তা ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধতার প্রশ্নে পরিণত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।