মাসুম হোসেন অন্তু, (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নে অবস্থিত অ্যালবার্ট এনার্জি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে স্টেশনটির গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
এই ঘটনার কয়েকটি সিসি টিভির ফুটেজ এসেছে। সেই সিসি টিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নির্বাচনের গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল মুখে গামছা বেধেঁ গ্যাস পাম্পে আসেন৷ এরপর তারা গ্যাস পাম্পে হামলা চালান৷ ফলে গ্যাস সরবাহ করার যাবতীয় সবকিছু ভেঙ্গে ফেলেছে।
এ ঘটনায় জেলা শহরের একমাত্র ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ থাকায় সিএনজি চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। গ্যাস না পাওয়ায় গ্যাসচালিত বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে মহাসড়কে সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসেছেন।
সিএনজি চালক মো. শরীফ বলেন, এসে দেখি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সিএনজি চালাতে পারছি না। এসে দেখি এখানে হামলা হয়েছে৷
গ্যাস পাম্পের কর্মচারী ও মেশিন অপারেটর ইনচার্জ মো. শামীম বলেন, রাতের আঁধারে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল পাম্পে ঢুকে হঠাৎ হামলা চালায় এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও যন্ত্রাংশে ভাঙচুর করে দ্রুত সরে যায়।
গ্যাস পাম্পের গেটম্যান আক্তার হোসেন বলেন, আমি ওই সময়ে ছুটিতে ছিলাম। আজ (শনিবার) এসে দেখি গ্যাস পাম্প
হামলা হয়েছে৷ সিসি টিভিও তারা ভেঙ্গে ফেলেছিল, সেগুলো আপাতত পরিবর্তন করা হয়েছে৷
জনদূর্ভোগ হওয়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। তিনি বলেন, আমরা মালিক পক্ষের সাথে বসেছিলাম৷ প্রশাসনের সাথেও কথা বলেছি। দোষীদের বিচার করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। যতদ্রুত সম্ভব এটি যেনো চালু করা হয়, সেব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি৷
গ্যাস পাম্পের শিফট ইনচার্জ মো. কিরণ বলেন, আমরা এখনো মামলা করতে পারিনি৷ প্রশাসন নাম চাচ্ছে, তবে সিসি ক্যামেরায় কারও মুখ দেখতে পারিনি।
সার্বিক বিষয় পরিদর্শন করেও সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ ও সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।