মোঃ হাসনাইন আহম্মেদ,ভোলা প্রতিনিধি,
উৎসবমূখর পরিবেশে ভোলার চারটি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এক যোগে জেলার ৫২৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন শুরু হয়। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলবে।
সকাল থেকে ভোলা-১ আসনের কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে ঘুরে ভোটার দেখা গেছে, ভোর থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। নারী-পুরুষ সবাই উৎসমূখর পরিবেশে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুশি ভোটাররা।
ভোলা সদর উপজেলার পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ভোটার মো. তাজুল ইসলাম জানান, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। ভোটের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।
একই কেন্দ্রের নারী ভোটার নাছিমা বেগম জানান, অন্যবারের চেয়ে এবার পরিবেশ অনেক ভালো। তিনি কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিতে পেরে আনন্দিত।
পঞ্চাশোর্ধ রাবেয়া বেগম জানান, জীবনে অনেকবার ভোট দিয়েছেন। এবারই সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলায় মোট ২৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভোলা-১ আসনে ০৮জন, ভোলা-২ আসনে ০৮জন, ভোলা-৩ আসনে ০৬জন ও ভোলা-৪ আসনে ০৭জন। ভোলা জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬লাখ ৯২ হাজার ৬৮৮জন। এর মধ্যে এর মধ্যে পুরুষ ০৮লাখ ৭৯ হাজার ৮৯৭জন, নারী ০৮লাখ ১২হাজার ৭৭৫জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ১৬জন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কশান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন ও সকল ধরণের সহিংসতা রোধে ভোলায় পুলিশ, নৌবাহিনী, র্যাব, কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও আনসারের ১০ হাজার ১৭৩জন সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৫২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৩১টি কেন্দ্র। এর মধ্যে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী চরে ৪৩টি কেন্দ্র রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাদ করার জন্য পুলিশ, নৌবাহিনী, র্যাব, কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
নির্বাচনী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বঝায় রাখতে চারটি আসনে মোট ১০ হাজার ১৭৩জন আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসারসহ ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও নৌবাহিনী, কোস্টকার্ড, বিজিবি টহল টিম সার্বক্ষণিক নজরদারীতে রয়েছে। নির্বাচনী মাঠে ২৪জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট নিয়োগ রয়েছে।
ভোলার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশপাশি পুলিশের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স রয়েছে।
নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও প্রতিটি উপজেলায় দুই প্লাটুন করে ব্যাটালিয়ান আনসার নিয়োজিত রয়েছে। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহনের লক্ষে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। আমার সমন্বিতভাবে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে একটি ডেপ্লয়মেন্ট প্লান করা হয়েছে।
এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রেগুলোর জন্য আলাদাভাবে প্লান করা হয়েছে। এছাড়াও ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রের আসার পথে কোনো প্রকার বাঁধার সম্মুখিন না হয়, যে জন্য পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর মোবাইল টিম রাখা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের ভোট কেন্দ্রেগুলোতে কোস্ট গার্ড সদস্যরা রয়েছেন।
আবার ভোট শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রগুলো থেকে নির্বাচনের ফলাফলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আসার জন্য আলাদা সিকিউরিটি দেওয়া হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলে থেকে ভোটের মালামাল আনার জন্য নৌবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।
ভোটাররা যাতে নির্বিগ্নে ভোট কেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারে সে জন্য সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমার আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।