বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরাসরি বিএনপি নেতাকর্মীদের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। বুধবার সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে তার অফিসের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি অভিযোগটি উত্থাপন করেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ দাবি করেন, সকালবেলা তার নির্বাচনী কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা প্রচারণামূলক কাজ করছিলেন। সে সময় বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের ঘনিষ্ঠজন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহম্মেদ খান এবং তার ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে হামলা চালায়। তিনি বলেন, অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, প্রশাসন নিরপেক্ষ আচরণ করছে না; বরং বিএনপির পক্ষে কাজ করছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা দেওয়া হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, বরিশাল-৩ আসনে কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনলেই নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারত। তিনি অভিযোগ করেন, তার কর্মীদের নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং নির্বাচনের পর হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এখনো সময় আছে প্রশাসনের জন্য। নিরপেক্ষ ও দৃঢ় ভূমিকা নিলে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব।
ঘটনার পর বুধবার দুপুরে মাধবপাশা বাজারে ভাঙচুর হওয়া নির্বাচনী অফিস পরিদর্শনে যায় বাবুগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা ও পুলিশ। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে তারা খোঁজখবর নেন।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সুলতান আহম্মেদ খান বলেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি অস্থির করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এসব প্রচার করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, বিএনপির কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয়।
মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অহিদুল ইসলাম খান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ব্যারিস্টার ফুয়াদ নিজেই তার কার্যালয়ে ভাঙচুর করে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। তিনি দাবি করেন, সকাল থেকেই এলাকায় টাকা ও ডামি ব্যালট বিতরণের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বাধা দিলে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে নিজেরাই অফিসে ভাঙচুর করে দায় বিএনপির ওপর চাপানো হয়েছে।
নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বরিশাল-৩ আসনের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন নজর প্রশাসনের দিকে, তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।