বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের এক জীবন্ত ইতিহাস। কারাবরণ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন, তবু মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সংগ্রাম থেকে একবিন্দুও সরে যাননি। মৃত্যুর আগে চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার সময় তারেক রহমানকে দেখিয়ে তিনি বলেছিলেন,
“ভাইয়ার খেয়াল রেখো” সেই আহ্বান শুধু পরিবারের জন্য নয়, ছিল দেশের ভবিষ্যতের জন্যও। সেই কথাটি শুধু মায়ের মমতাসুলভ কথা ছিল না, ছিল দেশের মানুষের সামনে এক সংগ্রামী নেত্রীর অসমাপ্ত দায়িত্ব যোগ্য উত্তরসূরীর হাতে তুলে দেওয়ার শেষ আহ্বান।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবারও জাতীয় নির্বাচন। ১৮ বছর পর মানুষ আবার নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই অধিকার হঠাৎ করে আসেনি। এর পেছনে আছে অসংখ্য ত্যাগ, অগণিত চোখের অশ্রু, আর অনেক অপূরণীয় ক্ষতি।
এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন।
ইলিয়াস আলী, জনি, বাপ্পি, নুরে আলম, ওয়াসিম আকরাম, রাব্বি, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে ধর্ষিত হওয়া নোয়াখালীর সুবর্ণচরের পারুল বেগম তাদের নাম শুধু স্মৃতি নয়, গণতন্ত্রের মূল্য কত বড় তার সাক্ষ্য।
আবু সাইদ, মুগ্ধসহ জুলাই-আগস্টের শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় ভোটাধিকার মানে শুধু একটি ব্যালট নয়, এটি রক্ত দিয়ে অর্জিত অধিকার।
আগামীকাল শুধু নির্বাচন নয়, এটি ইতিহাসের সামনে আমাদের দায়বদ্ধতার দিন। এটি শহিদদের স্বপ্ন পূরণের দিন। এটি গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার দিন। আসুন, আমরা আমাদের ভোটের মাধ্যমে সেই ত্যাগকে সম্মান জানাই। আসুন, গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়াই। মানুষের অধিকার, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতি সংহতি জানিয়ে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিন।