আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটারদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
ভোট দিয়ে বেরিয়ে এলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেউ যেন কেন্দ্র ছেড়ে না যান।
মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা পরাজয়ের আশঙ্কায় ভীত, তারা পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টি ও অপপ্রচার ছড়াতে পারে। এসব বাধা অতিক্রম করেই ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভোট দেওয়ার পর তা নয়ছয় না হয়ে যায়। এজন্য ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটারদের সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, পরপর চারটি নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়নি। এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র ভোটারদের অংশগ্রহণে ঈদের মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রমাণ করে মানুষ এবার তাদের পছন্দের সরকার চায়।
জামায়াত আমির জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে ১১ দলীয় জোট সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে অতীতের নির্যাতন ও নিপীড়নের অবসান ঘটবে এবং আবরার ফাহাদসহ জুলাই বিপ্লবের সব শহীদের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রায় ১৪০০ শহীদের রক্তের দায় জাতির কাঁধে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করলে জনগণের ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করা যাবে। অতীতের মতো পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা জনগণ আর মেনে নেবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তা হবে নতুন বাংলাদেশের সরকার। এই সরকার কোনো দল, গোষ্ঠী বা পরিবারের সরকার নয়; বরং কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার হবে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, আবাল-বৃদ্ধ সবার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এই সরকারে।
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ যদি বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, তাহলে ফলাফল যাই হোক না কেন তা সম্মানের সঙ্গে মেনে নেওয়া হবে। সরকারে থাকা বা বিরোধী দলে বসা মুখ্য বিষয় নয়; জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখাই জামায়াতের মূল অবস্থান।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।