অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন ভূমিকা রেখেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি; এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল।
ভাষণে তিনি তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষভাবে কথা বলেন। ড. ইউনূস বলেন, এমন একটি প্রজন্ম আছে যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। তারা এমন এক বাস্তবতায় বড় হয়েছে, যেখানে ভোটের আয়োজন ছিল, কিন্তু প্রকৃত ভোট ছিল না।
এই দীর্ঘ বঞ্চনার মূল্য জাতিকে প্রতিনিয়ত দিতে হয়েছে। তবু তরুণরা আশা ছাড়েনি, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। আন্দোলন, প্রতিবাদ ও স্বপ্নের মধ্য দিয়ে তারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাস বদলের সেই সুযোগ এখন এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই শক্ত ভূমিকা রেখেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারিতেও নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
নারীরাই দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ক্ষুদ্র ঋণ, কুটির শিল্প ও নারী উদ্যোক্তা কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে নারীর আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক পরিবর্তনের গল্প।
ভাষণের মাধ্যমে তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।