জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার গঠন করতে পারলে দেশবাসীকে দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ উপহার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না; তাদের রাজনীতি থেকেই ঝেঁটিয়ে বিদায় জানাতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিন সোমবার রাতে ঢাকার দোহারে জয়পাড়া পাইলট স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা-১ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের পক্ষে।
জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তা কোনো দলীয় সরকার হবে না, বরং ১৮ কোটি মানুষের সরকার হবে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, একবার সুযোগ দিন—মামলাবাজি ও অনিয়মমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
দোহারকে কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো চাঁদাবাজি বা দস্যুতা চলবে না; মানুষ সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন সৃষ্টি করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকার বহু মানুষ প্রবাসে থাকেন। প্রবাসে কেউ মারা গেলে যেন মরদেহ পড়ে না থাকে—সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব ধর্মের মানুষের জন্য ন্যায় ও ইনসাফ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সমাবেশে জামায়াত আমির ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের হাত ধরে তাকে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধৈর্য ও শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তব্যের একপর্যায়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিলে নেতাকর্মীরাও তাতে সাড়া দেন। প্রায় ১৮ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ তরুণদের বাংলাদেশ। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে—তরুণরাই তাকে বিজয়ী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম বিজয়ী হলে দোহার-নবাবগঞ্জবাসী একজন মন্ত্রী পাবেন এবং রাজধানীর পাশের এই অঞ্চল আর অবহেলিত থাকবে না।
সমাবেশ শুরুর আগেই জয়পাড়া পাইলট স্কুল মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। সন্ধ্যার পর জামায়াত আমির সভাস্থলে পৌঁছালে তাকে স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। সভাস্থলের আশপাশে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবিএম কামাল হোসাইন। প্রধান বক্তা ছিলেন প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম এবং সভা পরিচালনা করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির ইব্রাহিম খলিল। এছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন ও এনসিপির রাসেল মোল্লা প্রমুখ।