মাহিনুর ইসলাম মাহিন, মৌলভীবাজার
প্রবাসে কোনো রেমিটেন্স যোদ্ধা মারা গেলে তার মরদেহ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেশে আনা হবে এবং প্রয়োজনে তার পরিবারের দায়িত্বও সরকার বহন করবে—এমন ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত ঐতিহাসিক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার ভোট। এটি ২৪-এর যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। এই ভোটের সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ যুক্ত হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ পরিবর্তন চায়। যে দেশ দুর্নীতিতে শীর্ষে থাকে, সে দেশ আমার দেশ নয়। এই দেশে আর কোনো দুর্নীতি থাকবে না, থাকবে না চাঁদাবাজি।
তিনি আরও বলেন, সারাবিশ্ব সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ আমরা পেছনের দিকে যাচ্ছি। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। অথচ প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের বিমানবন্দর এখনও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের নয়, ফলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগে প্রবাসীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সুযোগ পেলে সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। ২৪-এর আগস্টে যুবকরাই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। ৫ আগস্টের আগে আমাদের সভা কিংবা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ছিল না—সেই সুযোগ করে দিয়েছে যুবসমাজ। আবু সাঈদ থেকে ওসমান হাদি—যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজকের এই বাংলাদেশ পেয়েছি।
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ও মৌলভীবাজার-০২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি ইয়ামির আলীর সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান, সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুর রব, লেবার পার্টি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি শাহ মাছুম ফারুকী, এনসিপির জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক উদ্দিন সুন্দরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে আমাকে কুলাউড়া থেকে নির্বাচন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি একাধিক আসন থেকে নির্বাচন করতে পারি না। কুলাউড়ায় দাড়িপাল্লার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন সংসদ সদস্য। তবে ছায়া এমপি হিসেবে আমিও তার পাশে থাকবো। ফলে কুলাউড়াবাসী দু’জন এমপির সহযোগিতা পাবে।
তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কৃষক-শ্রমিক, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই আইনের চোখে সমান হবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় আইন সবার জন্য সমান নয়। আমরা ইনসাফ ও সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার-০১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম এবং মৌলভীবাজার-০২ (কুলাউড়া) আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলীকে জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।