১৪৭, ময়মনসিংহ-২ ( তারাকান্দা-ফুলপুর ) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১০ টায় তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের ঐতিহ্যেবাহী তালদিঘি বহুমুখী স্কুল মাঠে ১০ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনীয় রিকশা প্রতীকের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক।
মাওলানা মামুনুল হক জনসভায় বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুইটা ভূত রয়েছে। যেমন ১। সন্ত্রাস ও গুন্ডামী তন্ত্র ২। দুর্নীতি এবং লুটপাট তন্ত্র। ২৪-এর বিপ্লবের মাধ্যমে পুনর্বাসিত কিছু মানুষ আবারও নতুন করে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ নামক স্বৈরাতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে মারিয়া হয়ে উঠেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই
দেখা গেল-ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে- রাজনীতির দুই ভূত কাঁধ থেকে নামাতে কেউ রাজি নয় লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি আজও অব্যাহত।
তিনি আরও বলেন, বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা এলেও সেই বিপ্লবের সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছেনি। দিনমজুর, হকারসহ খেটে খাওয়া মানুষ আজও
চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত থাকতে পারছে না। গোটা দেশে শোষকের মুখ বদলালেও শোষণের ধরন একই রয়ে গেছে। শাসকের চেহারা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি। আবারও নতুন করে হেলমেট বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা দেশের মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড় সালে ব্রিটিশ শাসন
থেকে মুক্তি পেলেও মানুষের প্রকৃত মুক্তি আজও নিশ্চিত হয়নি। ১৯৭ সালে পাকিস্তানি শাসনের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনের পর মানুষ আশা
করেছিল এবার তারা নিজেদের শাসন নিজেরাই
প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার এত বছর পরও সাধারণ মানুষ শোষণ, দুর্নীতি ও বৈষম্যের
শিকার হয়ে আছে আজও।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে দেশের ১১টি রাজনৈতিক দল হাত মিলিয়েছে। আমরা শপথ করেছি। বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম থেকে পিছপা হবো-না। এই ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
তারাকান্দা উপজেলা
শাখার সভাপতি এ এইচ এম আব্দুস সবুর খাঁনের
সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন-
দলের কেন্দ্রীয় সংসদের ড. খলিলুর রহমান মাদানি,
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাও. এনামুল হক
(মূসা), কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক
নূর মুহাম্মদ আজিজি, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম,ছাত্র মজলিসের মাহদী হাসান শিকদার, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত,
ময়মনসিংহ-২ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (সুজন), খেলফত মজলিসের মাও. মতিউর রহমান, এনসিপি’র ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শহীদুল ইসলাম,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তারাকান্দা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন খাঁন, জামায়াতে ইসলামী ফুলপুর শাখার সভাপতি আব্দুল হান্নান সাহেব, সাধারণ সম্পাদক মাও. সাইফুল ইসলাম মাস্টার, খেলাফত মজলিস তারাকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি মাও. সাইফুদ্দিন সাহেব,যুব মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আতাহার আলী, ফুলপুর উপজেলা শাখা সভাপতি আজিম উদ্দিন শাহ, সাধারণ সম্পাদক মাও. আনিছুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও ১০ দলীয় ঐক্য জোটে বিভিন্ন পর্যয়ের নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে মামুনুল হক প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদুল্লাহর হাতে
রিক্সা প্রতীক তুলে দিয়ে রিকশা মার্কা ভোট চেয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী করে সংসদে পাঠানোর আহ্বান জানান দেশবাসীসহ ভোটারদের কাছে। নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে বিদায় করা হবে। সেই সাথে তালদিঘির সারা মাঠে রিকশা রিকশা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে জনতার উচ্চ আওয়াজে।